বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার স্যানালপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সনদ ও স্বীকৃত ডিগ্রিবিহীন এক ব্যক্তিকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সুনীল কুমার বিশ্বাসকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্যানালপাড়া এলাকায় তার চেম্বারে অভিযান চালানো হয়। সুনীল কুমার বিশ্বাস রামচন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সুনীল কুমার বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা ডিগ্রি বা সনদ ছাড়াই চেম্বার খুলে চিকিৎসার নামে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। তিনি রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার পাশাপাশি নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ এবং অস্ত্রোপচারও করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানে তার চেম্বার থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
অভিযানকালে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আমিরুল ইসলাম। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুজ্জামান হিমু।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, অভিযানে শেরপুর থানা পুলিশ ও বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন। জনস্বার্থে ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ চিকিৎসাকেন্দ্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত সুনীল কুমার বিশ্বাসকে পরদিন সকালে কারাগারে পাঠানো হবে।