পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানকে কয়েক ঘণ্টার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর আবারও কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) মধ্যরাতে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে তাকে ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ভোরেই তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে মঙ্গলবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও সর্বোচ্চ আদালত তা খারিজ করে দেন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ মধ্যরাতে ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
আদালতের নির্দেশের পর ইমরান খানের পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাকে কয়েক দিন হাসপাতালে রাখা হতে পারে। তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করে তাকে পুনরায় কারাগারে নেওয়া হয়।
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া ও ফেরত পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে হাসপাতালের আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও রেঞ্জার্স সদস্য মোতায়েন করা হয়। সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আশপাশের কয়েকটি প্রধান সড়ক ও সংযোগ পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান ইমরান খান। এরপর ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তোশাখানা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। পরবর্তীতে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকায় ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে বলে দাবি করে আসছে তার পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীরা। তার চিকিৎসা ও কারাবন্দি থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলছে।