Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / জাতীয় / ‘আমি মরি নাই’, নিজেকে জুলাই শহীদ দেখে সাংবাদিক সোহেল - Chief TV

‘আমি মরি নাই’, নিজেকে জুলাই শহীদ দেখে সাংবাদিক সোহেল - Chief TV

2026-08-17  ডেস্ক রিপোর্ট  38 views
‘আমি মরি নাই’, নিজেকে জুলাই শহীদ দেখে সাংবাদিক সোহেল - Chief TV

‘আমি মরি নাই! আমি মিজানুর রহমান সোহেল। পেশায় লেখক ও সাংবাদিক। এবং হ্যাঁ, আমি এখনো জীবিত আছি।’—সোমবার (১৭ আগস্ট) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এভাবেই নিজের জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাংবাদিক ও লেখক মিজানুর রহমান সোহেল।

সোমবার সকাল থেকেই পরিচিতজন, সহকর্মী ও সাংবাদিকদের একের পর এক ফোন পেতে থাকেন তিনি। এমনকি তার আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে ফোন করে জানতে চান, তিনি বেঁচে আছেন কি না।

এর কারণ, রাজধানীর গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি প্রেজেন্টেশনে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই হবিগঞ্জে ‘শহীদ’ সাংবাদিক হিসেবে ‘সোহেল আকাঞ্জি’ নামের সঙ্গে মিজানুর রহমান সোহেলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের ওই উপস্থাপনার ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সোহেল। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, একজন জীবিত মানুষকে মৃত বা শহীদ হিসেবে উপস্থাপন করা কোনো সাধারণ তথ্যগত ভুল নয়। এটি একজন মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত পরিচয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

তিনি বলেন, ঘটনাটি কোনো ব্যক্তিগত আলাপচারিতা বা অনানুষ্ঠানিক পোস্টে ঘটেনি; বরং একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের প্রেজেন্টেশনে এমন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ অনুষ্ঠানটির উদ্দেশ্য ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের সাহস, ভূমিকা ও আত্মত্যাগ স্মরণ করা এবং সত্য তথ্য তুলে ধরার বিষয়টি সামনে আনা।

সোহেলের প্রশ্ন, একজন সাংবাদিকের নামের সঙ্গে ছবি যুক্ত করার আগে ছবিটি কার, নামটি কার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জীবিত না মৃত—এসব তথ্য অন্তত একবার যাচাই করা হয়েছিল কি না। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব আরও বেশি ছিল বলেও মনে করেন তিনি।

সোহেল জানান, অনুষ্ঠানস্থল থেকেই প্রথম কয়েকজন সাংবাদিক তাকে ফোন করেন। শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে ফোনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদ হননি এবং ২০২৪ সালের ৪ জুলাই হবিগঞ্জেও মারা যাননি। তিনি জীবিত আছেন এবং এখনো লিখছেন ও মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন।

এ ধরনের ভুল তথ্যের সামাজিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন এই সাংবাদিক। তার ভাষ্য, কেউ তথ্যটি বিশ্বাস করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারেন, আবার কেউ তার পরিবার বা পরিচিতজনদের কাছে শোকবার্তাও পাঠাতে পারেন। এতে একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত পরিচয় ও পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই ভুলের দায় কার—এমন প্রশ্ন তুলে সোহেল জানতে চেয়েছেন, তথ্য সংগ্রহ, নাম-ছবি মিলিয়ে দেখা, প্রেজেন্টেশন তৈরি ও যাচাই এবং প্রকাশ্যে উপস্থাপনের আগে অনুমোদনের প্রতিটি ধাপে কারা দায়িত্বে ছিলেন। তবে কাউকে অযথা অভিযুক্ত করতে চান না জানিয়ে তিনি দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা ও সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।

নিজের ফেসবুক পোস্টে সোহেল আরও বলেন, প্রথমে কী করবেন তা বুঝতে পারেননি। কিন্তু পরে মনে হয়েছে, চুপ করে থাকার সুযোগ নেই। কারণ, সোমবারই কয়েকজন তাকে ফোন করে জানতে চেয়েছেন তিনি বেঁচে আছেন কি না। ভুল তথ্যটি পরদিন আরও কত মানুষের কাছে পৌঁছাবে, তা তিনি জানেন না।

নিজের প্রচারের জন্য নয়, বরং ভুল তথ্যটি পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যেই ফেসবুকে পোস্টটি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেল।


Share: