মাগুরার শালিখায় বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান হত্যা মামলায় পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শালিখা আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক বর্ণালী রানী তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসমাইল হোসেন পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থানায় কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে বিপ্লব কুমার নাথ বরিশাল নৌ-পুলিশে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইন্দুরকানী থানায় কর্মরত অবস্থায় ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বরিশাল নৌ-পুলিশে কর্মরত অবস্থায় বিপ্লব কুমার নাথকে গ্রেপ্তার করে মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁরা দুজনই মশিয়ার রহমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মশিয়ার রহমানকে তাঁর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান তৎকালীন শালিখা থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেন। পরে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় ঘটনাটিকে ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে দেখিয়ে শালিখা থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল।
নিহত মশিয়ার রহমানের স্ত্রী হাসিনা বেগম ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে শালিখা থানাকে নির্দেশ দেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনের সময় এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যা এবং এ ধরনের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিতে পারেন, তবে এ বিষয়ে তাঁকে জানানো হয়নি। ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহব্বত খান জানান, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলার জন্য তিনি অনুমোদিত নন।
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ইসমাইল হোসেন মাগুরার শালিখা থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি ইন্দুরকানী থানায় কর্মরত ছিলেন।
দীর্ঘদিন আগের এই হত্যা মামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।