রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে অস্বাভাবিকভাবে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তৈরি হওয়া রহস্যের অবসান হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ওই তরুণী নিজেই জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।
বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার সড়কে একটি মোটরসাইকেলে তিন আরোহীকে দেখা যায়। ওমরাহ সফর শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মোটরসাইকেলটিকে অনুসরণ করেন। তার চোখে পড়ে, চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছেন। তরুণীর দুই পা খালি অবস্থায় অস্বাভাবিকভাবে ঝুলছিল। এ দৃশ্য দেখে তিনি তরুণীটি মৃত নাকি অচেতন, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
পরে মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেটের তথ্য ধরে বিভিন্ন সংস্থার সূত্রে এর মালিকের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। জানা যায়, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। এ ঘটনায় দুটি মোবাইল নম্বরের তথ্যও পাওয়া গেছে। এর একটি নম্বরের শেষ তিন সংখ্যা ১৫২, যা এক শোরুম মালিকের বলে জানা গেছে। তবে ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তার শোরুম থেকে মোটরসাইকেলটি বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার নম্বর মোটরসাইকেলটির সঙ্গে যুক্ত হলো, তা তিনি জানেন না। অপর নম্বরটি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, মোটরসাইকেলটির মালিক আব্দুল্লাহপুরের বাসিন্দা হলেও চালকের আসনে থাকা যুবকের বাড়ি রাজেন্দ্রপুর। তার নামের শেষাংশ ‘আলম’। মোটরসাইকেলে থাকা তরুণীকে ওই যুবক নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তরুণীর বড় বোনের স্বামীর ভাষ্য, ‘মিতু’ (ছদ্মনাম) কখনো মদ্যপান করেননি। ঘটনার দিন স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে তিনি রাগ করে চলে যান। পরে ওই যুবকের সঙ্গে তিনি মদ্যপান করেছিলেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ওই যুবকেরা তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন তিনি।
তরুণীর বড় বোনের স্বামী আরও জানান, বারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আলম ও তার এক বন্ধু তাকে নিয়ে টঙ্গীতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ওই অবস্থায় টঙ্গীতে না গিয়ে তারা মিরপুরে ফিরে যান। পরে মিরপুরে এক বান্ধবীর বাসায় তরুণীকে রেখে আলম তার বোনকে ফোন করেন।
জানা গেছে, ওই তরুণীর এর আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। তার সাবেক এক স্বামীও তাকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে তরুণী নিজেই জানান, তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন। ফলে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে তাকে অচেতন বা মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার মতো যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তারও অবসান হয়েছে।