পটুয়াখালীর দশমিনায় মারুফ মুন্সি নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে নিজের দেড় বছরের শিশুসন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্তান বিক্রির ওই টাকা দিয়ে তিনি একটি পুরোনো আইফোন কিনেছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মুন্সিবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দশমিনা থানায় অভিযোগ করেছেন মারুফের মা মাহফুজা বেগম।
মাহফুজা বেগম জানান, প্রায় চার বছর আগে ঢাকার সাভারের বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন তার ছেলে মারুফ। তাদের সংসারে মুসা নামে এক ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। প্রায় এক মাস আগে দাম্পত্য কলহের জেরে শিশুটির মা বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে শিশু মুসা দাদির কাছেই থাকত।
তার অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যার আগে বাড়িতে ফিরে মারুফ পরদিন সকালে শিশুটিকে জামা-প্যান্ট পরিয়ে দিতে বলেন। পরে নাতিকে বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত ছেলে ও নাতি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরে মাহফুজা বেগম জানতে পারেন, মারুফ ঢাকায় তার মামার বাসায় অবস্থান করছেন। তার মামা বাহাদুর মিয়ার জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ সন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাহফুজা বেগমের দাবি, ইমরান নামে এক ব্যক্তির কাছে লিখিতভাবে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে দেওয়া হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে মারুফ একটি পুরোনো আইফোন কিনেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
এদিকে ইমরান হোসেন নামে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার দাবি, তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে সন্তান নেই। শ্বশুরের সঙ্গে আলোচনা করেই লিখিতভাবে এক লাখ টাকার বিনিময়ে মারুফের কাছ থেকে শিশুটিকে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মারুফ মুন্সির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।