Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / কুড়িগ্রাম / দেড় মিনিটে মন্ত্রীকে ৩৫ বার স্যার বলা ইউএনও এখন ‘ছুটি বিতর্কে’ - Chief TV

দেড় মিনিটে মন্ত্রীকে ৩৫ বার স্যার বলা ইউএনও এখন ‘ছুটি বিতর্কে’ - Chief TV

2026-10-29  ডেস্ক রিপোর্ট  2 views
দেড় মিনিটে মন্ত্রীকে ৩৫ বার স্যার বলা ইউএনও এখন ‘ছুটি বিতর্কে’ - Chief TV

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বিতর্কের রেশ না কাটতেই ছুটির অনুমোদন ও কর্মস্থল ত্যাগের সময় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম। জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া তাঁর ছুটির আবেদনপত্রে অনুমোদনের দৃশ্যমান সিল-স্বাক্ষর না থাকা এবং আবেদনপত্রে উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে কর্মস্থল ছাড়ার সময়ের অসংগতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এদিকে তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সেবা না পেয়ে ফিরে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ও মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইউএনওর কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাজে এসে তাঁকে না পেয়ে ফিরে যান কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন আবেদন নিষ্পত্তি, স্বাক্ষর ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রয়োজন হলেও তাঁকে না পাওয়ায় আটকে থাকছে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

সেবা নিতে আসা মো. হানিফ আলী বলেন, একটি আবেদনপত্রে ইউএনওর স্বাক্ষর নিতে কার্যালয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় কাজটি সম্পন্ন হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাশেদুল ইসলামও জানান, ইউএনওকে না পেয়ে অনেক মানুষকে ফিরে যেতে দেখেছেন তিনি।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া ছুটির আবেদনপত্রে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ২৫ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের নৈমিত্তিক ছুটি চেয়েছেন তানজিলা তাসনিম। একই আবেদনে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটির সময় কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। তবে আবেদনপত্রে ছুটি মঞ্জুরের দৃশ্যমান সিল বা স্বাক্ষর না থাকায় ছুটি যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে, ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাকারিয়া হোসেনের ভাষ্য, ২২ অক্টোবর ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন ইউএনও। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তাঁর কর্মস্থলে ফেরার কথা। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা ছুটির সময়ের সঙ্গে কর্মস্থল ত্যাগের এই সময়ের পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইউএনওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তানজিলা তাসনিমের অনুপস্থিতিতে রাজারহাট উপজেলার রুটিন দায়িত্বে রয়েছেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক তাঁকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের কোনো লিখিত কাগজ তাঁর কাছে নেই বলে জানান তিনি। দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তাঁকে রাজারহাটে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। এ কারণে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথও ২২ অক্টোবর থেকে ছুটিতে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসাদুজ্জামান দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, রাজারহাটের ইউএনওর অনুপস্থিতি নিয়ে তাঁকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

গত ২২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন তানজিলা তাসনিম। ভিডিওতে প্রায় দেড় মিনিটে এক মন্ত্রীকে ৩৫ বার ‘স্যার’ সম্বোধনের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর ছুটির আবেদন, কর্মস্থল ত্যাগের সময় এবং অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক সেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ সামনে এল।

এর আগেও বিতর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল তানজিলা তাসনিমের বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজার সদর উপজেলার ইউএনও থাকাকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে এক পর্যটক তাঁকে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।

সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজারহাটের ইউএনও তানজিলা তাসনিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ছুটির আবেদন যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়েছিল কি না, নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি ছিল কি না এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কার্যকর ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান সেবাপ্রত্যাশীরা। তাঁদের দাবি, ছুটি ও দায়িত্বসংক্রান্ত অস্পষ্টতার কারণে যেন সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।


Share: