বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধারের পর তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, সে বিষয়ে জানিয়েছে টঙ্গী নৌ পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, টঙ্গী নৌ পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে। পরে নৌ পুলিশের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরি।
নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে তারা রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
মরদেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ফিরোজ উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ২৮ বছর বলে ধারণা করা হয়। তার পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো জামা। হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাহসিফের বাসা রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে। তিনি সপরিবার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন এবং গত মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার বাবার নাম কে এম এনায়েত হেলাল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনা ঘিরেও আলোচনায় এসেছিলেন তাহসিফ। এ ঘটনায় বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফীর নামও উঠে আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, রিফাত দৃশ্যটি ধারণ করেছিলেন এবং তাহসিফ নিজের ফেসবুকের সময়রেখায় ভিডিওটি প্রকাশ করেছিলেন। এ ঘটনায় দুজনকেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ভিডিওটি কীভাবে ধারণ ও প্রকাশ করা হয়েছিল, তা নিয়ে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করেছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলাফলের পরই তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।