পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে এবার সরব হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ব্রায়ান লারা। কারাবন্দী ইমরানকে যথাযথ ও স্বাধীন চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। লারার মতে, বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক অবস্থানের নয়; বরং একজন কিংবদন্তির প্রতি মৌলিক মানবিকতার প্রশ্ন।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইমরানের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন লারা। ক্যারিয়ারে খুব বেশি ম্যাচে মুখোমুখি না হলেও পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়কের প্রতি শুরু থেকেই গভীর শ্রদ্ধা ছিল বলে জানান তিনি।
লারা বলেন, ইমরানের সঙ্গে মাঠে মাত্র কয়েকবার মুখোমুখি হলেও তার প্রতি তৈরি হওয়া শ্রদ্ধা আজও অটুট রয়েছে। ১৯৯০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাকিস্তান সফরে চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইমরানের বিপক্ষে খেলেছিলেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি।
পাকিস্তানকে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়কের বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নিতে পারছেন না লারা। একসময় দেশের মানুষের কাছে আশা, গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকা একজন মানুষ কেন প্রয়োজনীয় যত্ন ও মর্যাদা পাচ্ছেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ইমরানের জন্য যথাযথ ও স্বাধীন চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে লারা বলেন, এটি রাজনীতির বিষয় নয়। ক্রিকেট বিশ্বের একজন কিংবদন্তির জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রত্যেক মানুষের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করাই মূল বিষয়।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। সাম্প্রতিক সময়ে তার স্বাস্থ্য, বিশেষ করে চোখের সমস্যা নিয়ে পরিবারের সদস্য ও সমর্থকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। গত আগস্টে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাকে হাসপাতালে নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। পরে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পাকিস্তান সরকারের দাবি, পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা ইমরানকে কারাগারে থাকার মতো শারীরিকভাবে উপযুক্ত ঘোষণা করেছেন। তবে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে।
ইমরানের চিকিৎসার দাবিতে লারা অবশ্য প্রথম নন। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব, সুনীল গাভাস্কার, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলসহ আরও কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ইমরানের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ইংল্যান্ড-পাকিস্তান লর্ডস টেস্টের সময়ও ইমরানের চিকিৎসা ও নিরাপত্তার বিষয়টি ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনায় আসে। স্কাই স্পোর্টসের এক সাক্ষাৎকারে ইমরানের দুই ছেলে বাবার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই সাক্ষাৎকার সম্প্রচার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও স্কাই স্পোর্টসের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিল।
ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ইমরান পাকিস্তানের অন্যতম বড় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। তার চিকিৎসা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন থেকে একের পর এক কণ্ঠ যোগ হওয়ার মধ্যে এবার ব্রায়ান লারার বক্তব্য বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।