চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের গ্রুপভিত্তিক ফলাফলে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছেন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে তিন বিভাগেই ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার বেশি।
গ্রুপভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগে গড় পাসের হার ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এ হার ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগে মোট ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৯ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ লাখ ৭৪ জন। এ বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৭১ দশমিক ৬০ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৭৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। তিন বিভাগের মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হারের দিক থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সাফল্য সবচেয়ে বেশি।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৮৪ হাজার ৮৬৪ জন। এ বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন মানবিক বিভাগে। এ বিভাগে ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৩৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩১১ জন। গড় পাসের হার ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৩৫ দশমিক ০১ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৪৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এদিকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে যে ঘাটতি ছিল, তা ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে। আগামী দিনে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার আরও কমেছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এভাবে ফল কমে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। শিখনপদ্ধতিতে ঘাটতি রয়েছে। সামগ্রিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। প্রকাশিত ফলে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা পুনর্মূল্যায়নের পর বোঝা যাবে বলেও জানান তিনি।
আগামী দিনে আরও স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান, পরীক্ষার মূল্যায়ন যেন সঠিকভাবে হয় এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন অবমূল্যায়নের শিকার না হন। অনুষ্ঠানে ফলাফলের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
এদিকে গত বছরের তুলনায় এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩২ হাজার ৯২ জন। ২০২৫ সালে পুনর্নিরীক্ষণের পর মোট ৭২ হাজার ১৭৬ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। চলতি বছর এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
এ বছর ১২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।
২০২৫ সালের পরীক্ষায় প্রথমে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। পরে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের পর আরও ৩ হাজার ৭৯ জনের ফল পরিবর্তন হয়ে জিপিএ-৫ হয়। এতে চূড়ান্তভাবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭২ হাজার ১৭৬ জনে। সেই হিসাবে গত বছরের চূড়ান্ত ফলের তুলনায় এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।