Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / বিনোদন / পাকিস্তানের এক নাটকে ভিউ ছাড়াল ১৭০ কোটি - Chief TV

পাকিস্তানের এক নাটকে ভিউ ছাড়াল ১৭০ কোটি - Chief TV

2026-10-31  ডেস্ক রিপোর্ট  20 views
পাকিস্তানের এক নাটকে ভিউ ছাড়াল ১৭০ কোটি - Chief TV

ডিজিটাল বিনোদনের দুনিয়ায় নতুন রেকর্ড গড়েছে পাকিস্তানি টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘দার-ই-নিজাত’। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে নাটকটির ভিউ ১৭০ কোটি বা ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রচার শেষ হওয়ার আগেই মাত্র ২৩টি পর্ব প্রকাশের পর এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে ধারাবাহিকটি।

পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই ডিজিটালে প্রচারিত নাটকটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন দুরেফিশান সেলিম ও শেহেরিয়ার মুনাওয়ার। ধারাবাহিকটিতে যথাক্রমে জারিয়াব ও আবু বকর চরিত্রে দেখা গেছে তাঁদের। এ ছাড়া জামিল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নামির খান।

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও চিত্রনাট্যকার উমাইরা আহমেদের রচনায় নির্মিত ধারাবাহিকটি পরিচালনা করেছেন সাকিব খান। এর গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জারিয়াব ও জামিলের দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্ক। জারিয়াব মনপ্রাণ দিয়ে জামিলকে ভালোবাসলেও জামিলের চরিত্রে ফুটে উঠেছে স্বার্থপরতা ও সুবিধাবাদী মনোভাব।

গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ১৩তম পর্বে। সেখানে নিজের স্বার্থের জন্য জারিয়াবকে ধোঁকা দিয়ে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে দেয় জামিল। এই বিশ্বাসঘাতকতা জারিয়াবের জীবনে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে আঘাত পাওয়ার পর সে নিজের অতীত নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে এবং জীবনের ভুলগুলো সংশোধনের পথে এগিয়ে যায়।

একসময় আধুনিক জীবনযাপনের চাকচিক্যে অভ্যস্ত জারিয়াব ধীরে ধীরে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের দিকে ঝুঁকে পড়ে। আত্মমর্যাদা, আত্মোপলব্ধি ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে তার চরিত্রে পরিবর্তন আসে। দর্শকদের কাছে জারিয়াবের এই রূপান্তর নাটকটির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

জারিয়াবের জীবনের এই পরিবর্তনের সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় আবু বকরের। জারিয়াবের অতীত জানার পরও আবু বকর তাকে গ্রহণ করতে চায়। তার পরিণত মনোভাব, সম্মানবোধ ও ভালোবাসা জারিয়াবকে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সাহস জোগায়। তাঁদের সম্পর্কের বিকাশও দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ।

অন্যদিকে, যে স্বার্থের জন্য জামিল জারিয়াবকে ছেড়ে গিয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই সিদ্ধান্তের পরিণতির মুখোমুখি হতে হয় তাকে। নাটকের শেষভাগে তার অনুশোচনা ও একাকিত্বের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সম্পর্কের প্রতি অবহেলা ও বিশ্বাসভঙ্গের পরিণতি গল্পটিতে গুরুত্বপূর্ণভাবে ফুটে উঠেছে।

লেখিকা উমাইরা আহমেদের জীবনমুখী লেখনী নাটকটির জনপ্রিয়তার অন্যতম ভিত্তি। সমসাময়িক তরুণ প্রজন্মের সম্পর্ক, ভুল সিদ্ধান্ত এবং সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো গল্পে উঠে এসেছে। পাশাপাশি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষকে ঘিরে সমাজের প্রচলিত ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে ধারাবাহিকটি।

দুরেফিশান সেলিম ও শেহেরিয়ার মুনাওয়ারের অভিনয় এবং পর্দায় তাঁদের রসায়নও দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে। নাটকটির জনপ্রিয়তা পাকিস্তানের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারত ও বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইউটিউবে ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে এর উল্লেখযোগ্য দর্শকপ্রিয়তার কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন বিনোদন প্রতিবেদনে।

পাকিস্তানের নাট্যজগতে ‘তেরে বিন’ ও ‘ইশকে মুর্শেদ’-এর মতো ধারাবাহিকও বিপুলসংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। তবে মাত্র ২৩টি পর্ব প্রচারের পর ‘দার-ই-নিজাত’-এর ১৭০ কোটি ভিউ অর্জন ডিজিটাল মাধ্যমে পাকিস্তানি নাটকের জনপ্রিয়তার নতুন নজির হিসেবে আলোচনায় এসেছে।


Share: