Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / বরিশাল বিভাগ / সারাদেশ / ঝালকাঠি / কাগজে ১১০ শিক্ষার্থী, বাস্তবে নেই একজনও, শ্রেণিকক্ষে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছাগল! - Chief TV

কাগজে ১১০ শিক্ষার্থী, বাস্তবে নেই একজনও, শ্রেণিকক্ষে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছাগল! - Chief TV

2026-09-05  ডেস্ক রিপোর্ট  25 views
কাগজে ১১০ শিক্ষার্থী, বাস্তবে নেই একজনও, শ্রেণিকক্ষে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছাগল! - Chief TV

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে ১১০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে পাওয়া গেছে ভিন্ন চিত্র। বিদ্যালয়ের কোনো শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীর দেখা মেলেনি। বরং শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চজুড়ে ছাগলের বিচরণ এবং মলমূত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে। জরাজীর্ণ হোয়াইট বোর্ডে জমেছে ধুলোবালি ও মাকড়সার জাল।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামের পশ্চিম বাদুরতলা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। এ সময় বিদ্যালয়ের মূল ফটক ও অফিস কক্ষে তালা ঝুলছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও কাউকে পাওয়া যায়নি।

পরে বেলা ১২টার দিকে প্রধান শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তবে তাদের কাছে শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা দেখতে চাওয়া হলে তারা তা দেখাতে পারেননি। সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষক এক সহকারী শিক্ষকের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে টাকা দেওয়ারও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে বাস্তবে শিক্ষার্থী না থাকলেও কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী দেখিয়ে প্রতি মাসে সরকারের প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে। অডিট বা তদন্ত দল বিদ্যালয়ে এলে ঝালকাঠি শহর থেকে অটোরিকশা ভাড়া করে বাইরের শিশুদের এনে শিক্ষার্থী হিসেবে দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, স্থানীয় দু-চারজন ছাড়া কেউ বিদ্যালয়ে আসে না। তাই ঝালকাঠি শহর থেকে গাড়ি ভাড়া করে শিক্ষার্থী আনা হয়।

বিদ্যালয়কে ঘিরে পরিবারতন্ত্র ও অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠাতা আবুবকর সিদ্দিকের পরিবারের পাঁচজন সদস্য বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক তার ভাইয়ের ছেলে মিজানুর রহমান পারভেজকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের দুই সাবেক সভাপতি হাসনাইন তালুকদার দিবস ও জাহিদুল ইসলাম জাহিদ অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থী না থাকায় এবং তাদের স্বাক্ষর জাল করে সরকারি অনুদানের টাকা উত্তোলনের ঘটনায় তারা প্রশাসনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। বর্তমান সভাপতি মিজানুর রহমান পারভেজের কাছে বিদ্যালয়ের বেহাল দশা ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রধান শিক্ষককে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বিদ্যালয়টিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি জানান, প্রধান শিক্ষকের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Share: