নরসিংদী থেকে মরদেহ নিয়ে সুনামগঞ্জে বাড়ি ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়েছে একটি অ্যাম্বুলেন্স। এতে নারী ও শিশুসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের হেলাল মিয়ার মেয়ে নাদিয়া আক্তার (১৭) শুক্রবার রাতে নরসিংদীর গাউছিয়া এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। শনিবার সকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন স্বজনরা। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে দুই পরিবারের ১২ জন যাত্রী ছিলেন।
পথে সদরপুর এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় এক পথচারী ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খাদ থেকে মরদেহসহ সবাইকে উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনায় হেলাল মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী হেনা আক্তার (৩৫), মেয়ে সাদিয়া আক্তার (১৫), তানিসা আক্তার (৮), ছেলে আরিফুল ইসলাম ফয়েজ (২০), আবু সুফিয়ান (১৩), ফয়েজের স্ত্রী রহিমা বেগম (১৯), ছেলে রাইয়ান মিয়া (২), হেলাল মিয়ার ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন (২২), বিল্লালের স্ত্রী তানজিনা বেগম (২০), তাদের মেয়ে সাবিনা বেগম (৪), ছেলে ফুয়াদ আহমেদ (২) এবং অ্যাম্বুলেন্সচালক রনক হাসান হৃদয় (৩৮) আহত হন।
আহতদের শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়িতে করে বাড়িতে পাঠানো হয়।
নিহত নাদিয়া আক্তারের চাচা কাজল মিয়া বলেন, “আমার দুই ভাই পরিবার নিয়ে নরসিংদীতে থাকেন। বড় ভাইয়ের মেয়ে নাদিয়া গতকাল রাতে বাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। সকালে তার মরদেহ নিয়ে বাড়িতে আসার সময় অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সবাই আহত হয়। তবে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন।”
শান্তিগঞ্জ উপজেলা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মো. ফজল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহসহ সবাইকে উদ্ধার করেন। অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহের সঙ্গে ১২ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই আহত হয়েছেন। চালকও আহত হয়েছেন। পরে তাদের শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।