নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত ডনের উপস্থিতিতে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান ডনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনও সর্বোচ্চ রিমান্ডের আবেদন জানান। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, ফরিদুল ইসলামসহ কয়েকজন রিমান্ডের বিরোধিতা করে ডনের জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ডনকে আদালতের হাজতখানা থেকে এজলাসে তোলা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে সালমান শাহর ভক্তরা ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেন। তারা ডনের সর্বোচ্চ রিমান্ডের দাবি জানান। ভক্তদের দাবি, ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরাসহ মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানান তারা।
গত ৯ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে দুই দফা জামিনের আবেদন করলেও তা মঞ্জুর হয়নি।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান সালমান শাহ। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরে বিষয়টি নিয়ে হত্যা মামলা করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলায় সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদকেও আসামি করা হয়েছে।