ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বার্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক নুরুদ্দোহা সোহেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপের কারণে বিদ্যালয় ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভুক্তভোগী ছাত্রী।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার গণিতের সহকারী শিক্ষক নুরুদ্দোহা সোহেল ওই ছাত্রীর হোয়াটসঅ্যাপে কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠিয়ে কুপ্রস্তাব দেন। বিষয়টি পরিবার জানতে পারার পর গত ৫ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বিষয়টি তদন্ত করেন। ১২ ফর্দের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ সত্য ও বাস্তবসম্মত’ বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের ‘চরম নৈতিক স্খলনের’ জন্য কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্ত প্রতিবেদন ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ওই শিক্ষকের বেতন স্থগিত রাখা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক প্রথমে তিন দিনের ছুটি নেন। এরপর তিনি নতুন করে তিন মাসের চিকিৎসা ছুটির আবেদন করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এড়াতে দীর্ঘ সময় কর্মস্থলের বাইরে থাকার কৌশল হিসেবেই তিনি চিকিৎসা ছুটির আবেদন করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম জানান, শিক্ষক নুরুদ্দোহা সোহেল প্রথমে তিন দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। পরে তিন মাসের চিকিৎসা ছুটির আবেদন জমা দিয়েছেন। বিষয়টি ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে চিকিৎসা ছুটির আবেদনকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. শাহনুর জামান। তিনি বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর প্রতিবেদন ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় চিকিৎসা ছুটির আবেদন করা অযৌক্তিক। তাই ছুটির আবেদনের কোনো ফরওয়ার্ডিং পাঠানো হবে না। অভিযুক্ত শিক্ষকের বেতনও ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগের পর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী। একই বিদ্যালয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কর্মরত থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে তার পরিবার। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে আর ওই বিদ্যালয়ে না পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে ছাড়পত্রের (টিসি) আবেদন করেন। আবেদন পাওয়ার পর ওই দিনই শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিশ্চিত করেন প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভুক্তভোগী ছাত্রীকেই বিদ্যালয় ছাড়তে হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।