ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে ছোট ভাইয়ের পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, একই নারীকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করছেন আপন দুই ভাই। ওই নারীও তার আগের স্বামীকে অস্বীকার করে ছোট ভাইকে স্বামী হিসেবে দাবি করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বালিয়াচড়া গ্রামের আজিজুল হকের বড় ছেলে একরাম আলী পাশের গ্রামের পূর্ণিমা নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর পূর্ণিমার সঙ্গে একরামের ছোট ভাই আব্দুল্লাহর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে আব্দুল্লাহ তার ভাবি পূর্ণিমাকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে তারা কয়েক দিন অন্যত্র একসঙ্গে বসবাস করেন।
শনিবার দুপুরে পূর্ণিমার বাবা ও বড় ভাই ঢাকার সাভার থেকে তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গায় নিয়ে আসেন। বিষয়টি সামাজিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে থানার সামনে আসেন তারা।
সেখানে স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে একপর্যায়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে গড়ায়। এ সময় ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পূর্ণিমার বাবা বলেন, মেয়েকে উদ্ধার করে বিষয়টি আইনি ও সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্দেশ্যে উভয় পক্ষকে থানার সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেখানে স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পূর্ণিমা দাবি করেন, তার প্রথম স্বামী একরাম ও পরিবারের সদস্যরা তাকে নির্যাতন করতেন। এ সময় দেবর আব্দুল্লাহ তাকে সহযোগিতা করতেন। পরে তিনি একরামকে ছেড়ে আব্দুল্লাহকে বিয়ে করে অন্যত্র সংসার শুরু করেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, থানার গেটের সামনে এক নারীকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে। পুলিশ গিয়ে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে।