লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের আলোচিত মামলায় মোক্তার আলী নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে পাটগ্রাম উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল ১১ বছরের ওই শিশু। তার বাবা দিনমজুর। আসামি মোক্তার আলী তাদের প্রতিবেশী হওয়ায় শিশুটি তাকে ‘দাদু’ বলে ডাকত। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে আসামি শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। এরপর শিশুটির বাবা আলকাছ হোসেন ২০২০ সালের ২৬ মে পাটগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত মোক্তার আলীকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, ১১ বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় আসামি দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এ ধরনের অপরাধ কমাতে তা ভূমিকা রাখবে।