ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে পাহাড়ের চূড়া থেকে পড়ে একটি পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। শুরুতে ঘটনাটিকে আইফোনের কিস্তির টাকা নিয়ে বাবা-ছেলের বিরোধের পরিণতি মনে করা হলেও, তদন্তে সামনে আসছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক সংকট, সন্তান হারানোর বেদনা ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের নানা তথ্য।
ঘটনার দিন সকালে ১৮ বছর বয়সী কুনাল চন্দগুড়ে পাহাড়ের খাদের কাছে অবস্থান করছিলেন। আইফোনের কিস্তির টাকা নিয়ে বাবার সঙ্গে বিরোধের পর সেখানে গিয়ে তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন বাবা মুরলীধর চন্দগুড়ে। একপর্যায়ে ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে গেলে ধস্তাধস্তির মধ্যে দুজনই গভীর খাদে পড়ে যান। পরে কুনালের মা সঙ্গীতা চন্দগুড়েও খাদে পড়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন সঙ্গীতা। তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রায় ২৯ হাজার অনুসারী রয়েছে। সেখানে তিনি নিয়মিত মোটিভেশনাল ভিডিওর পাশাপাশি পারিবারিক বিভিন্ন সংকট নিয়েও কথা বলতেন। পুরোনো ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে পুলিশ পরিবারের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার তথ্য খতিয়ে দেখছে।
জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে অসুস্থতায় পরিবারের বড় ছেলে মারা যাওয়ার পর তাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। পেশায় গাড়িচালক মুরলীধর সংসারে মনোযোগ হারিয়ে কাজে আরও বেশি সময় দিতে শুরু করেন এবং মাসের পর মাস বাড়ির বাইরে থাকতেন। ঘটনার দুই দিন আগে প্রায় তিন মাস পর তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। এরপর নতুন করে পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়, যা শুক্রবার সকালে চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুনালের আগেও একই স্থান থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করার ঘটনা ঘটেছিল। গত বছর পুলিশ তাকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হলেও এবার আর তাকে নিবৃত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার আগের দিন সঙ্গীতা তার ইউটিউব চ্যানেলে সম্পর্কের মূল্যায়ন নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। অন্য একটি ভিডিওতে পারিবারিক সম্পত্তি ও অধিকার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি বড় ছেলের মৃত্যুর সময়কার পারিবারিক বিরোধের কথাও উল্লেখ করেন।
পুলিশ এখন সঙ্গীতার প্রকাশিত ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে পরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধসহ ঘটনার পেছনের কারণগুলো খতিয়ে দেখছে। পুরো ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং এর পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক সংকট কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা তদন্তেই পরিষ্কার হবে।