কুমিল্লার দেবিদ্বারে মদপানের পর অসুস্থ হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২২ অক্টোবর দিবাগত রাতে দেবিদ্বার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুনাইঘর উত্তর পাড়ার ধান্নারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্রোগের কথা প্রচার করা হয়েছিল।
নিহত দুই যুবক হলেন ধান্নারপাড় এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. সালাউদ্দিন (৩২) এবং হাপুড়খাড়া গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে বাসার খান (৩১)। সালাউদ্দিন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২২ অক্টোবর রাতে ধান্নারপাড় এলাকায় নাঈমের মামার বাড়িতে সালাউদ্দিন, বাসার খানসহ কয়েকজন একসঙ্গে মদপান করেন। কিছুক্ষণ পরই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরদিন নিজ ঘরে সালাউদ্দিনকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। পরে ঘরের দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, অসুস্থ বাসার খানকে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় অসুস্থ অন্য চারজন হলেন ধান্নারপাড় এলাকার আতিক (৩৩), শাহীন শাহ (২৮), মোহাম্মদ নাঈম (২৮) এবং এলাহাবাদ গ্রামের কাউছার। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি শুরুতে প্রকাশ্যে আসেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালাউদ্দিনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রথমে হৃদ্রোগের কথা প্রচার করা হয়। পরে অতিরিক্ত মদপানের পর অসুস্থতা ও মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে।
কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাহমুদুল হাসান তামিম বলেন, সালাউদ্দিন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত মদপানের বিষয়টি তাঁরা জানতে পারেন।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কায় পরিবার বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়ে থাকতে পারে। মরদেহ দাফনের পর সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।