শিশুদের মধ্যে সততার চর্চা গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ে চালু করা হয়েছিল ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘সততা স্টোর’। সেখানে কোনো বিক্রেতা থাকতেন না। পছন্দের খাবার নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নির্ধারিত মূল্য টিনের বাক্সে রেখে দিত। সেই সততা স্টোরের টাকার বাক্স ভেঙে ১ হাজার ২৫০ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় থেকে দুটি বৈদ্যুতিক পাখাও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খাগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের জানালার গ্রিল কেটে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা সততা স্টোরের টাকার বাক্স ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে যায়। পাশাপাশি দুটি বৈদ্যুতিক পাখা চুরি করে। এ ছাড়া একটি আলমারির তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পূর্ণেন্দু চন্দ্র রায় জানান, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে ১০৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রায় সাত বছর আগে শিশুদের মধ্যে সততার চর্চা গড়ে তুলতে ‘সততা স্টোর’ চালু করা হয়। সেখানে মুড়ি, বিস্কুট, চানাচুরসহ বিভিন্ন শুকনা খাবার রাখা হতো। প্রতিটি খাবারের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া থাকত এবং টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের খাবার নিয়ে সেই মূল্য টিনের বাক্সে রেখে দিত।
চুরির ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এভাবে চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের মালপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
শিক্ষকেরা জানান, বিদ্যালয়ে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় রাতে পুরো প্রতিষ্ঠান অরক্ষিত থাকে। একই রাতে বিদ্যালয়ের পাশের খাগা আশ্রমেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার একটি কক্ষের তালা ভেঙে পূজার কাজে ব্যবহৃত কাঁসার থালাবাসনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে দাবি করে খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মুন্নাফ হোসেন বলেন, মাদকের টাকা জোগাড় করতে কেউ এ ধরনের চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এ কারণে এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো প্রয়োজন।
শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।