বগুড়ার গাবতলীতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরের শিকার হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এক যুবক গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত হাসান সরকার (২৬) ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের বড় চাপড়া গ্রামের মো. শাহজাহান সরকারের ছেলে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ছয়-সাত বছর আগে গাবতলী উপজেলার নসিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ী কলোনিপাড়া এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের মেয়ে আবিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন হাসান। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রের দাবি, সম্প্রতি স্ত্রী আবিয়া খাতুনের মুঠোফোনে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি জানতে পারেন হাসান। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে হাসান স্ত্রীর মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে হাসান শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে শাশুড়ি, শ্যালিকা ও ভায়রার কাছে বিষয়টি জানান। পরিবারের অভিযোগ, এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাসানকে মারধর করা হয়। এমনকি তাঁকে বেঁধে রেখে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তাঁর পরিবার।
হাসানকে মারধরের খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বজনেরা তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন বলে জানা যায়। কিছুক্ষণ পর মাকে বিষয়টি জানিয়ে হাসান অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। ধুনট থানায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে হাসানের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।