Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / আন্তর্জাতিক / ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান, খবর পেয়ে ১০ হাজার মানুষ হাজির - Chief TV

ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান, খবর পেয়ে ১০ হাজার মানুষ হাজির - Chief TV

2026-08-24  ডেস্ক রিপোর্ট  32 views
ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান, খবর পেয়ে ১০ হাজার মানুষ হাজির - Chief TV

ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান পেয়েছিলেন কেনিয়ার এক ছাগলপালক। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পশ্চিম কেনিয়ার প্রত্যন্ত চেপোরোর গ্রামে শুরু হয়েছে সোনা খোঁজার হিড়িক। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেখানে জড়ো হয় প্রায় ১০ হাজার মানুষ। ঝোপঝাড় ও পশুচারণের জায়গাটি এখন পরিণত হয়েছে অস্থায়ী সোনার খনিশিবিরে।

৩৩ বছর বয়সী মানাসে লোমাচার পেশায় ছাগলপালক। হারিয়ে যাওয়া একটি ছাগল খুঁজতে গিয়ে নদীর তীরে কয়েকজন নারীকে সোনা খুঁজতে দেখেন তিনি। কৌতূহলবশত তাদের সঙ্গে যোগ দেন লোমাচার। সেখানেই তিনি সোনার সন্ধান পান।

পরে মাত্র ৩ গ্রাম সোনা বিক্রি করে ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিং পান তিনি, যা প্রায় ২৮০ মার্কিন ডলারের সমান। লোমাচারের এই ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে চেপোরোরে সোনা খুঁজতে মানুষের ঢল নামে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, একপর্যায়ে সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। গত মাসেও যেখানে ছিল ঝোপঝাড় ও পশুচারণের জমি, সেখানে এখন অসংখ্য গর্ত, মাটির স্তূপ এবং অস্থায়ী খনিশিবির দেখা যাচ্ছে। তবে বর্তমানে মানুষের ভিড় কমে প্রায় আড়াই হাজারে নেমে এসেছে।

ওয়েস্ট পোকট কাউন্টির ডেপুটি কমিশনার স্যামুয়েল কিয়ারি জানান, লোমাচারের পাওয়া সোনাই এই উন্মাদনার একমাত্র কারণ নয়। আগস্টের শুরুতে একদল তরুণ ওই এলাকায় তুলনামূলক বড় পরিমাণে সোনা খুঁজে পান। পরদিন কয়েকজন নারীও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা পাওয়ার দাবি করেন। পরে মুখে মুখে খবর ছড়িয়ে পড়ার সময় তা অনেকটাই অতিরঞ্জিত হয়ে যায়।

ফলে খনির কোনো অভিজ্ঞতা নেই এমন মানুষও সোনার আশায় সেখানে ছুটে আসেন। এখন পর্যন্ত পাওয়া সোনার মূল্য কয়েকশ কেনিয়ান শিলিং থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ হাজার শিলিং বা ৬০০ ডলার পর্যন্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে মাটির নিচে মোট কত পরিমাণ সোনা রয়েছে কিংবা বাণিজ্যিকভাবে তা উত্তোলন লাভজনক হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

চেপোরোরের নদীর তীরে স্থানীয় নারীরা বহু বছর ধরেই বিভিন্ন সময়ে সোনা খুঁজে থাকেন। সাধারণত এ কাজ করে তারা সপ্তাহে প্রায় ৮ থেকে ২৩ ডলার আয় করেন। তবে সাম্প্রতিক সোনার সন্ধানের খবর সীমান্ত পেরিয়ে উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

উগান্ডার বুসিয়া থেকে আসা কারিগরি খনিশ্রমিক মুগিশা গডফ্রে জানান, বন্ধুর কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি চেপোরোরে এসেছেন। সেখানে পৌঁছাতে তার প্রায় ২৭ ডলার খরচ হলেও এখন পর্যন্ত এক টুকরো সোনাও পাননি। তবুও সোনা না পাওয়া পর্যন্ত বাড়ি ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোনার সন্ধানে মানুষের ভিড়কে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় গড়ে উঠেছে নতুন ব্যবসাও। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, খনিস্থলের আশপাশে ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সেখানে খাবার, পানি, কোমল পানীয়, রুটি, দুধসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছেন স্থানীয়রা।

তবে হঠাৎ করে হাজার হাজার মানুষের আগমনে স্থানীয় অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও থাকার সুবিধা না থাকায় নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। রাতে নিরাপদে থাকার জায়গার অভাব এবং খনিস্থলে পুরুষের আধিক্যের কারণে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা টহল বাড়ানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদেরও সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। শিশু-কিশোররা যাতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে খননকাজে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সোনার আশায় মানুষ মাটির আরও গভীরে গর্ত খুঁড়ছেন। ইতোমধ্যে কয়েক ট্রাক মাটি ও পাথর কাছের ওর্তুম শহরে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। এর ফলাফল পাওয়া গেলে ওই এলাকায় মাটির নিচে কী পরিমাণ সোনা রয়েছে, সে বিষয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

মানাসে লোমাচার চান, খনন বন্ধ না করে সরকারের সহায়তায় স্থানীয় খনিশ্রমিকদের নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সোনা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হোক। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র সরবরাহ করা হলে আরও খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলতে পারে এবং চেপোরোরের মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।


Share: