Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / নীলফামারী / সৈয়দপুরে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে - Chief TV

সৈয়দপুরে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে - Chief TV

2026-08-30  মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি  62 views
সৈয়দপুরে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে - Chief TV

নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রশাসনকে বাল্যবিয়ের খবর দেওয়ার পরও চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কাজীর মাধ্যমে কাবিননামা সম্পন্ন করার পাশাপাশি বর ও কনের বাড়িতে আয়োজন করা হয়েছে বিয়ের নানা অনুষ্ঠান। মাত্র ১৩ বছর বয়সী ওই শিশু শিক্ষার্থী বিয়ের পর গত তিন দিন ধরে স্বামীর সংসার করছে বলে জানা গেছে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগেই বিষয়টি জানানো হলেও বিয়ে ঠেকানো না যাওয়ায় সচেতন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী জিনু আক্তার। তার রোল নম্বর ১৩। সে সৈয়দপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী মনিরুদ্দিন রোড ধলাগাছ কয়া কিসামতপাড়ার জসির উদ্দিন ও জাহেদা বেগম দম্পতির দ্বিতীয় মেয়ে। গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সর্বশেষ বিদ্যালয়ে যায় জিনু। পরদিনই তাকে বিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

বর মুন্নাত (১৮) কামারপুকুর ইউনিয়নের কাঙ্গালুপাড়া এলাকার ট্রলি চালক মহুবার রহমানের ছেলে। তিনি সৈয়দপুর শুটকি আড়তে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।

স্থানীয়রা বাল্যবিয়ে বন্ধের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেনকে জানান। পরে তিনি বিয়ে বন্ধে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মোখছেদুল ইসলামকে নির্দেশ দেন। ইউপি সচিব গ্রাম পুলিশ ফয়সাল হোসেন ও শ্রী সত্যদাস এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিনকে মেয়েটির নানির বাড়ি নয়াহাট আশ্রয়ণ প্রকল্পে পাঠান। তবে তারা সেখান থেকে ফিরে আসার পর রাতে মেয়েটিকে একই ইউনিয়নের অসুরখাই সর্দারপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সম্পন্ন হয় বিয়ের কাবিননামা। বিয়ে পড়ান কামারপুকুর বাজারের কাজী ও হোমিও চিকিৎসক মাওলানা মোতাসিম বিল্লাহ।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ধলাগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক উম্মে হাবিবা প্রথমে বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের কোনো ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। পরে পিয়ন ও চতুর্থ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি। বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্টার দেখে প্রধান শিক্ষক জানান, জিনু আক্তারের জন্মতারিখ ২২ জুলাই ২০১৩। সে হিসাবে বর্তমানে তার বয়স ১৩ বছর ১ মাস ৬ দিন।

চতুর্থ শ্রেণির নিয়মিত এক শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ল কি না জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মরিয়ম নেছা বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ঝরে পড়ার রিপোর্ট হিসেবে জানাবেন।

ঘটনার সত্যতা জানতে বরের বাড়ি কামারপুকুর ইউনিয়নের কাঙ্গালুপাড়ায় গেলে মেয়েটির বড় নানি নুরুন্নাহার ও ছেলের মা মুক্তা বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে বর ও কনেকে সামনে আনা হয়। এ সময় জিনু আক্তার সংবাদকর্মীদের বলেন, তাঁর বিয়ে হয়েছে এবং এখন তিনি স্বামীর সংসার করবেন। স্কুলে আর যাবেন না বলেও জানায় শিশুটি।

পরে কামারপুকুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয় আয়শা হোমিও হলে গিয়ে কাজী মাওলানা মোতাসিম বিল্লাহর সঙ্গে কথা বলা হলে তিনিও বাল্যবিয়ের কাবিন করার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ছেলে ও মেয়ের আত্মীয়স্বজনের চাপেই বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে। এটিকে নিজের ভুল উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার কথা জানান তিনি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহাজাদী বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে কাজ করা হচ্ছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক সেমিনারও করা হয়েছে। বাল্যবিয়ের খবর পেলে প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ ও ইউপি সদস্যকে মেয়েটির নানির বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। তারা সেখানে বিয়ের কোনো আয়োজন না থাকার কথা জানিয়েছিলেন। পরে বিয়ে হয়ে থাকলে নিয়মিত মামলা হলে পুলিশ প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে বলে জানান তিনি।


Share: