নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত দেরিতে উপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিদিনই বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বিলম্বে শুরু হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্থানীয়রা।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ৭টা ৫০ মিনিট থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান করে দেখা যায়, সকাল ৮টার অফিস সময়ের আগে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। এরপর কয়েকজন আসলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী সকাল সাড়ে ৮টার পর কর্মস্থলে আসেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহারকে সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে দেখা যায়।
এর আগে অফিস স্টাফ মেহনাজ সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে, নার্স অমিতাভ রায় ৮টা ৩২ মিনিটে, নার্স আরিফা আক্তার ৮টা ৩৫ মিনিটে, নার্স নাসিমা ৮টা ৩৬ মিনিটে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও প্রধান কর্মকর্তার পিএ রুবেল ইসলাম ৮টা ৩৭ মিনিটে, কম্পিউটার অপারেটর কমল রায় ৮টা ৩৮ মিনিটে, জরুরি মেডিকেল অফিসার ডা. জান্নাত আরা ৮টা ৩৯ মিনিটে, অফিস স্টাফ আসাদুজ্জামান ৮টা ৫৫ মিনিটে, এমএলএসএস মনোরমা ব্যানার্জী ৮টা ৫৮ মিনিটে, মেডিকেল অফিসার ডা. সোহাগী সকাল ৯টা ২ মিনিটে এবং ওয়ার্ডবয় আব্দুল কাদের ৯টা ১২ মিনিটে উপস্থিত হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহার দাবি করেছেন, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সকাল ৮টা অফিস সময় হলেও সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ডিজিটাল হাজিরা মেশিনে উপস্থিতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর উপস্থিতি দিলে তা দেরি হিসেবে গণ্য হয়। অফিস স্টাফদের ক্ষেত্রে অফিস সময় সকাল ৯টা এবং সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ডিজিটাল হাজিরা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তার দাবি, এ নিয়ম অনুযায়ী রোববার কেউ দেরি করে আসেননি।
অন্যদিকে, স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজেও নিয়মিত দেরিতে কর্মস্থলে আসেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে রোববার তাকে দ্রুত কর্মস্থলে আসতে দেখা গেছে বলেও সূত্রটির অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া এবং রোগীরা যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নীলফামারীর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেরিতে আসার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বা নথি দেওয়া হলে তা যাচাই করে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ সরবরাহের বিষয়টিও তদারকি করা হবে বলে জানান তিনি।