জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি মৃত্যুর কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, আন্দোলন ও সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি নিজেকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবে গ্রেপ্তারের দাবির প্রসঙ্গ তুলে আন্দোলনের নতুন ধাপে প্রবেশের কথা জানান। একই সঙ্গে নিজের মৃত্যু হলেও সহযোদ্ধাদের পাশে থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
স্ট্যাটাসে হাদি বলেন, ‘মঞ্চ ৭১’-এর পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে গ্রেপ্তারের দাবি জানানোর মধ্য দিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ তাদের আন্দোলনের ‘সেকেন্ড ফেইসে’ প্রবেশ করেছে।নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন ও বক্তব্য উৎসর্গ করার কথাও জানান।
নিজের মৃত্যুর সম্ভাবনার কথাও ওই স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন হাদি। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল্লাহ তাকে নিয়ে গেলে যেন তার আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের একা ছেড়ে দেওয়া না হয়। তাদের পাশে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষদিকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে হাদি বলেন, দেহে শেষ বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত লড়াই চলবে। তার এই পুরোনো স্ট্যাটাসটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু এবং পরবর্তী সময়ে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়টি উঠে আসার পর।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় ছিলেন ওসমান হাদি। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে ১৪ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও পরে মামলায় হত্যা-সংক্রান্ত ধারা যুক্ত করা হয়। তদন্তভার পায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় ডিবি। অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।