১৯৪৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকার নবাবপুরে জন্মগ্রহণ করেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। তাঁর আসল নাম ঝর্ণা বসাক। শৈশবে খেলাধুলাপ্রিয় ও চঞ্চল স্বভাবের ঝর্ণার অভিনয় জগতে আসার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। বড় বোন সন্ধ্যা বসাককে দেখে নাচের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে বাবা তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেন বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে (বাফা)।
অভিনেত্রী শবনমের চলচ্চিত্রে পথচলার শুরু পরিচালক এহতেশামের হাত ধরে। এহতেশাম ছিলেন তাঁর বাবার বন্ধু। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর পরিচালিত ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রের একটি কোরাস গানের নাচে অংশ নেন ঝর্ণা। এটিই ছিল রূপালি পর্দায় তাঁর প্রথম উপস্থিতি। এরপর ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমার একটি গানে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি।
মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে প্রথমবার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শবনম। এই সিনেমাতেই ‘ঝর্ণা’ নাম বদলে তাঁর নাম রাখা হয় ‘শবনম’। এরপর ‘চান্দা’ ও ‘তালাশ’-এর মতো ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। অভিনয়ের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনাও থেমে যায়।
ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অভিনয় করে বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি পাকিস্তানের উর্দু চলচ্চিত্রেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন শবনম। বাংলা ও উর্দু মিলিয়ে প্রায় ১৮০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই অভিনেত্রী পাকিস্তানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘নিগার পুরস্কার’ পেয়েছেন ১২ বার।
দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯৯ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে বাংলাদেশে নতুন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেন শবনম। চলচ্চিত্রটি দর্শকপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করলেও এরপর আর নতুন কোনো সিনেমায় তাঁকে দেখা যায়নি।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন শবনম। বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে তাঁর দীর্ঘ অবদান তাঁকে দুই বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে আজও স্মরণীয় করে রেখেছে।