অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে সাবেক জিম্মি রম ব্রাসলাভস্কির পডকাস্ট ‘অক্টোবর ৮’-এর উদ্বোধনী পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এ বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে বেন-গভীর বলেন, গাজায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পাশাপাশি প্রতিরাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। এ ক্ষেত্রে শুধু সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের নয়, অন্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান জানান তিনি। গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করেন ইসরায়েলের এই কট্টরপন্থি মন্ত্রী।
একই সাক্ষাৎকারে পুরো গাজা উপত্যকায় ইহুদি বসতি স্থাপনের পক্ষে মত দেন বেন-গভীর। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের গণ-অভিবাসন বা স্থানান্তরের পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, শুধু গাজার নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল নয়, পুরো উপত্যকাজুড়েই ইহুদি বসতি স্থাপন করা উচিত।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বেন-গভীরের এমন বক্তব্যকে সম্ভাব্য জাতিগত নির্মূল অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বর্ণনা করেছেন। সরাসরি সামরিক অভিযান পরিচালনার একক কর্তৃত্ব তাঁর না থাকলেও ইসরায়েলের জাতীয় পুলিশ ও কারা বিভাগের দায়িত্বে থাকা বেন-গভীর দেশটির কট্টরপন্থি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী নেতা।
এর আগেও বেন-গভীরসহ কয়েকজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিভিন্ন বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিপ্রায়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
গাজায় সামরিক অভিযান সীমিত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলার মধ্যেই বেন-গভীরের সর্বশেষ বক্তব্য সামনে এলো। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।