মেক্সিকোর চিয়াপাসে নিখোঁজ এক নারীর সন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ফিল্টারযুক্ত ছবি ব্যবহার করায় বিপাকে পড়েছিল পুলিশ। ছবিতে এত বেশি ডিজিটাল পরিবর্তন করা হয়েছিল যে, বাস্তবে ওই নারীর চেহারার সঙ্গে ছবিটির মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
নিখোঁজ নারী গ্রেসিয়া গুয়াদালুপে ওরান্তেস মেন্দোসার বয়স ৩০ বছর। গত ১২ এপ্রিল চিয়াপাসের ওকোসোকোয়াউতলা দে এস্পিনোসা এলাকায় নিখোঁজ হন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের খবর জানানোর পর তার সন্ধানে দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করে কর্তৃপক্ষ। দেশটির নিখোঁজ নারীদের উদ্ধারে ব্যবহৃত আলবা প্রোটোকলের আওতায়ও অনুসন্ধান চালানো হয়।
গ্রেসিয়ার সন্ধানে পোস্টার ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হলেও সেখানে ব্যবহৃত ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেওয়া হয়েছিল। ছবিতে অতিরিক্ত ফিল্টার ও ডিজিটাল সম্পাদনা থাকায় তার মুখের বৈশিষ্ট্য ও চেহারায় বাস্তবের তুলনায় বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ছবি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, অতিরিক্ত ফিল্টারযুক্ত ছবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ কিংবা অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা কীভাবে সহজে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করবেন। মুখের গঠন, ত্বকের রং ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ডিজিটাল সম্পাদনার মাধ্যমে বদলে গেলে বাস্তব চেহারার সঙ্গে ছবি মেলানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত স্বস্তির খবর আসে। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর গত ১৭ এপ্রিল গ্রেসিয়াকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চিয়াপাসের ভ্যালেস অঞ্চলের একটি সড়ক থেকে তাকে নিরাপদে পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সরকারি কর্তৃপক্ষও তার সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
সরকারি অনুসন্ধান নথিতে গ্রেসিয়ার উচ্চতা, গায়ের রং, চুলের ধরন এবং গালে থাকা ফ্রেকলসসহ শারীরিক বৈশিষ্ট্যের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছিল। নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব চেহারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি ব্যবহার করা অনুসন্ধানকে আরও কার্যকর করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
গ্রেসিয়াকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি ফিরলেও ঘটনাটি নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ফিল্টারযুক্ত ছবি স্বাভাবিক হলেও নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে ব্যবহারের আগে ছবিটি কতটা বাস্তবসম্মত এবং সাম্প্রতিক, তা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।