Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / ধর্ম / জুমার আগে-পরের সুন্নত নামাজ পড়ার বিধান, বাড়িতে পড়লে হবে কি - Chief TV

জুমার আগে-পরের সুন্নত নামাজ পড়ার বিধান, বাড়িতে পড়লে হবে কি - Chief TV

2026-08-21  ডেস্ক রিপোর্ট  38 views
জুমার আগে-পরের সুন্নত নামাজ পড়ার বিধান, বাড়িতে পড়লে হবে কি - Chief TV

মুসলমানদের কাছে পবিত্র জুমার দিনটি সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, জুমার নামাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এবং বিনা কারণে তা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জুমার দিনের নামাজ, এর আগে-পরে সুন্নত এবং জুমা আদায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বর্জন করো। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)

হাদিসে জুমার দিনের মর্যাদা সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূর্য উদয়ের দিনগুলোর মধ্যে জুমাবার সর্বশ্রেষ্ঠ। এই দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং সেখান থেকে বের করা হয়। কেয়ামতও জুমার দিনেই সংঘটিত হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫০)

জুমার নামাজ মূলত দুই রাকাত ফরজ। এর আগে ও পরে সুন্নত নামাজ আদায়ের বিধান রয়েছে। মসজিদে প্রবেশের পর দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ আদায় করা যায়। হাদিসে এ নামাজের প্রতি গুরুত্বও দেওয়া হয়েছে। আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি জুমার খুতবার সময় মসজিদে প্রবেশ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে দুই রাকাত নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেন। (ইবনু মাজাহ, হাদিস: ১১১৩; তিরমিজি, হাদিস: ৫১১)

জুমার ফরজ নামাজের পর চার রাকাত সুন্নত আদায়ের কথাও হাদিসে এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার পর নামাজ আদায় করলে চার রাকাত আদায় করতে হবে। (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ৫২৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১০)

জুমার পরের সুন্নত নামাজ মসজিদের পাশাপাশি বাড়িতেও আদায় করা যায়। ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি জুমার নামাজ শেষে বাড়িতে গিয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন এবং বলতেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও এভাবে আদায় করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১২)

জুমার আগে ও পরের সুন্নত নামাজ নিয়ে আলেমদের মধ্যে ফিকহি মতভেদ রয়েছে। তবে জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করা অবশ্যই জরুরি। সুন্নত নামাজ কোনো কারণে ছুটে গেলে জুমার ফরজ নামাজ আদায় হয়ে যায়। তবে সামর্থ্য ও সুযোগ থাকলে সুন্নত নামাজগুলো আদায় করা উত্তম।

নামাজের পরিপূর্ণতার জন্য এর রুকন, অজু, সময় ও খুশুসহ সংশ্লিষ্ট বিধান যথাযথভাবে পালন করাও গুরুত্বপূর্ণ। উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য ভালোভাবে অজু করে, নির্ধারিত সময়ে তা আদায় করে এবং রুকু ও খুশু যথাযথভাবে পালন করে, তার জন্য আল্লাহর ক্ষমার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। (মিশকাত, হাদিস: ৫৭০)

অন্যদিকে বিনা কারণে জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমর ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যারা জুমা পরিত্যাগ করে তাদের এ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিতে পারেন এবং তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৭৫)

আরেকটি হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি অবহেলা করে পরপর তিনটি জুমা ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন। (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ৫০০)

তাই জুমার দিন যথাসম্ভব আগে মসজিদে যাওয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, গোসল করা, মিসওয়াক করা, সুগন্ধি ব্যবহার এবং উত্তম পোশাক পরিধান করে নামাজ আদায় করা ইসলামী আমলের অংশ হিসেবে গুরুত্ব বহন করে। জুমার ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুযোগ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সুন্নত নামাজ আদায় করে দিনটিকে ইবাদতের মাধ্যমে কাটানোই উত্তম।


Share: