সরকারি অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারের পরিবর্তে রাষ্ট্রের কাজ ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে সরকার। ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক প্রকাশিত এক ই-বুকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্যোগের বিবরণ দিতে গিয়ে এ কথা বলা হয়েছে।
ই-বুকে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ায় প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে ই-বুকে।
সরকারের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ আমদানিনির্ভর ও ঋণনির্ভর অর্থনীতি, ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং দুর্বল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার চ্যালেঞ্জের মধ্যে ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিন থেকেই এসব খাত পুনর্গঠনের কাজ শুরু করা হয়। তবে প্রথম ১৮০ দিনেই প্রতিটি ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্যের দাবি করা হয়নি বলে ই-বুকে উল্লেখ করা হয়েছে।
জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে ই-বুকে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ন্যায়, জবাবদিহি, মানবিক মূল্যবোধ ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের কাজ চলছে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে ধৈর্য, সহনশীলতা ও রাজনৈতিক সৌজন্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে অপ্রয়োজনে নেতাদের ছবি টানানোর সংস্কৃতি বন্ধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং গাড়িবহরে অতিরিক্ত প্রটোকল না রাখার বিষয়টিও ই-বুকে তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি ব্যয় কমাতে ভোজ, আপ্যায়ন ও বিদেশ সফরের প্রতিনিধিদলসহ বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় খাতে কাটছাঁটের কথা বলা হয়েছে। দেশীয় পণ্যের ব্যবহার, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সরল জীবনযাপন এবং প্রশাসনে অপচয় রোধে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতি সৌজন্যপূর্ণ আচরণ ও রাজনৈতিক সহনশীলতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ই-বুকে আরও বলা হয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের শ্রমিক ঋণ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ঋণ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা, কৃষিঋণ মওকুফ, ‘ওয়ান স্টপ ওয়ান সার্ভিস’, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, খুদে বৈজ্ঞানিক প্রকল্প ও ‘নজরুলবর্ষ’-এর মতো কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উল্লেখ করে ই-বুকে বলা হয়েছে, এর ১০ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা তিনি সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন। একই সঙ্গে দলীয় সংসদ সদস্যদের বাড়ি ও গাড়ির সুবিধা গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।