২০১৩ সালে মাত্র ৯ বছর বয়সে একটি দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ডিউনার্স্ট কলিন। তখনই ঘটে যায় এমন একটি ঘটনা, যা পরবর্তী সময়ে বদলে দেয় তার জীবন। অন্য এক ভাইরাল শিশুর সঙ্গে তাকে ভুল করে মিলিয়ে ফেলায় বিভ্রান্ত হয়ে পাশ ফিরে তাকান ডিউনার্স্ট। সেই কয়েক সেকেন্ডের অভিব্যক্তি ভিডিও করেন এক ব্যক্তি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করা হলে মাত্র তিন সেকেন্ডের সেই দৃশ্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
এরপর ডিউনার্স্টের মুখ ইন্টারনেটের পরিচিত ‘রিঅ্যাকশন মিমে’ পরিণত হয়। বছরের পর বছর তার ছবি ব্যবহার করে তৈরি হতে থাকে অসংখ্য মিম। তবে এই জনপ্রিয়তা ছোট বয়সে মোটেও স্বস্তির ছিল না ডিউনার্স্টের জন্য। নিজের অজান্তে তৈরি হওয়া মিম-পরিচয় তাকে দীর্ঘদিন অনুসরণ করে এবং অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও ফেলেছে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে অবশ্য নিজের গল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতেই নেন ডিউনার্স্ট। মিমের পরিচয়ে আটকে না থেকে মনোযোগ দেন আমেরিকান ফুটবলে। নিউ জার্সির হয়ে স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর ভর্তি হন লেক এরি কলেজে। সেখানে এনসিএএ ডিভিশন-টু ফুটবলে লাইনম্যান হিসেবে খেলেন তিনি।
৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার ডিউনার্স্টের ওজন প্রায় ৩৩০ পাউন্ড। মাঠে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে পরিচিতি তৈরি করার পাশাপাশি পুরোনো মিম-পরিচয়ও একসময় তার জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।
কলেজ অ্যাথলেটদের নাম, ছবি ও ব্যক্তিগত পরিচিতি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ার পর ডিউনার্স্ট তার অনুসারীদের পপাইসকে ট্যাগ করার আহ্বান জানান। শেষ পর্যন্ত পপাইসের সঙ্গে তার চুক্তি হয়। শুধু তাই নয়, নিউ জার্সিতে ডিউনার্স্টকে নিয়ে বিলবোর্ডও দেয় প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে লেখা ছিল, ‘ফ্রম মিমস টু ড্রিমস’—অর্থাৎ মিম থেকে স্বপ্নপূরণ।
একসময় যে শিশুর অভিব্যক্তি ইন্টারনেটজুড়ে হাসির উপকরণ হয়ে উঠেছিল, সেই পরিচয়ই শেষ পর্যন্ত ডিউনার্স্টের জন্য সুযোগের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। মিমের আড়ালে হারিয়ে না গিয়ে নিজের পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসে সেই পরিচয়কে নতুন সম্ভাবনায় পরিণত করেছেন তিনি।