ভারতের মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২৫ বছর বয়সী প্রসূতি কল্পনা মিশ্রের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে মারা গেছে তার নবজাতক সন্তানও। মৃত্যুর আগে হাসপাতালের ওয়ার্ডে চরম অসুস্থ অবস্থায় থাকা কল্পনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়া এবং দায়িত্বে থাকা কর্মীদের অবহেলার কারণেই মা ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সরাসরি অবহেলার অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল।
স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় থাকা কল্পনা মিশ্রকে গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রেওয়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রসবকালীন সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে কল্পনাকে প্রসূতি ওয়ার্ডে অসুস্থ অবস্থায় কষ্ট পেতে দেখা যায়। পরিবারের অভিযোগ, তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে স্বজনদের কাছে যেতে চাইলেও কর্তব্যরত নার্সিং কর্মীরা তাকে যেতে দেননি।
কল্পনার বাবা রামশরণ মিশ্র অভিযোগ করেন, মেয়ের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তিনি চিকিৎসকদের কাছে বারবার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তার অনুরোধ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি অ্যানেসথেশিয়ার অতিরিক্ত মাত্রার কারণেও কল্পনার জ্ঞান ফেরেনি বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।
মা ও শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল এলাকায় স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসায় অবহেলা ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন তারা। পরে হাসপাতালের ডিন ড. সুনীল আগরওয়াল ও সুপারিনটেনডেন্ট ড. রাহুল মিশ্র স্বজনদের সঙ্গে বৈঠক করে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেন।
ঘটনার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই নার্সিং কর্মকর্তা সাধনা ভার্মা ও সীমা মুজালদেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রদেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকটের চিত্রও উঠে এসেছে সরকারি তথ্যে। ২০২৫-২৬ সালের হিসাবে রাজ্যটিতে অনুমোদিত ৫ হাজার ৪৪৩টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশই শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি মেডিকেল অফিসারের অনুমোদিত পদের প্রায় ৪১ শতাংশ খালি থাকায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানা গেছে।