পটুয়াখালীর বাউফলে অসহায় ইউসুফ হাওলাদারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। পরিবারের একাধিক সদস্যের অসুস্থতা ও চরম আর্থিক সংকটের খবর পেয়ে তাঁর পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া এবং নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারটির জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের বামনিকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ হাওলাদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসা, খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭০ বছর বয়সী ইউসুফ হাওলাদার ও তাঁর স্ত্রী ফুলচান (৬০) নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তাঁদের বড় ছেলে নুরুল ইসলাম (৩৭) ও বড় মেয়ে রাসেদা (৩২) মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। ছোট ছেলে সবুজের (১৮) রয়েছে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা। পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ থাকায় তাঁদের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
পরিবারের সাত সন্তানের মধ্যে মেজো ছেলে জব্বার (২৬) ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সীমিত আয়ে নিজের সংসারের পাশাপাশি অসুস্থ স্বজনদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে পরিবারের চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা ও আর্থিক সংকটের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবারটিকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তুলতে স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের দুরবস্থা লাঘবে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিশেষ করে একই পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ হলে চিকিৎসা ও জীবনযাপনের ব্যয় মেটাতে যে সংকট তৈরি হয়, তা মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন।
এ লক্ষ্যে ইউসুফ হাওলাদারের পরিবারের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরিবারটির নিয়মিত আয়ের পথ তৈরি হবে এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।