ঝালকাঠির রাজাপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশের দায়ের করা মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী মো. আবির আহম্মেদ তুরাগ মৃধার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা। আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা এ মামলায় তুরাগকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তুরাগ নিজেও। তাঁর দাবি, তিনি ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজাপুর থানার উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। থানার ৩৪ নম্বর এ মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ২৭ নম্বর আসামি তুরাগ মৃধা রাজাপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মতিউর রহমান টুকু মৃধার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের চর বাগড়ি এলাকার একটি বসতবাড়িতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। এ সময় তাঁরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালালে উপস্থিত ব্যক্তিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যান।
মামলার আসামি তুরাগ মৃধা বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকলেও তাঁরা সবাই তারেক রহমানের দল করেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাঁর নাম কী কারণে বা কার ইশারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। তাঁর বাবা রাজাপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং তাঁরাও দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সামনে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মো. রফিকুল ইসলাম মৃধা বলেন, তুরাগ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলীয় মিছিল-মিটিংয়েও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে করা মামলায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া কাম্য নয়। নামের ভুল কিংবা ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ আলী হাসান বলেন, তুরাগ রাজাপুর উপজেলা ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী এবং তাঁর বাবাও বিএনপির নেতা। তাঁকে ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দিয়ে মামলার আসামি করায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ওসি বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, তুরাগ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁর নাম থাকা কাম্য নয়। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিশ্চিত করলে প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হবে।
এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন বিশ্বাস বলেন, মামলায় ছাত্রদলের কারও নাম থাকার কথা নয়। তারপরও যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।