Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / ময়মনসিংহ বিভাগ / সারাদেশ / শেরপুর / ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪ - Chief TV

ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪ - Chief TV

2026-11-01  ডেস্ক রিপোর্ট  22 views
ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪ - Chief TV

শেরপুরের শ্রীবরদীতে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া নারী ঝিনুক আক্তার (২৬) হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা শহরের পুরাতন গরুহাটি মহল্লায় পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর সকালে শ্রীবরদীর কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, নিহত নারীর নাম ঝিনুক আক্তার। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার মো. শাকিল মিয়ার মেয়ে।

এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর নিহতের ফুফু শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পাঁচজনকে আসামি করে শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই।

তদন্তের একপর্যায়ে গত ২৯ অক্টোবর পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কাজলদিঘী ইউনিয়নের দিঘলগ্রাম থেকে মো. নূর ইসলাম বাবুকে (৪৪) গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন জামালপুর থেকে মো. সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১ নভেম্বর কুমিল্লার দাউদকান্দি ও শেরপুরের শ্রীবরদী এলাকা থেকে মো. নূর মোহাম্মদ ওরফে গোসা এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝিনুক আক্তার টঙ্গীর একটি পার্লারে কাজ করতেন। গত ২১ অক্টোবর দুপুরে সজল, বাবু, বুশা ও মাহবুবা তাঁকে ঢাকার উত্তরখানের একটি পাঁচতলা ভবনের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআই জানায়, ঘটনার পর ঝিনুক চলে যেতে চাইলে ফাতেমা তাঁকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেন। ওই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আরও অর্থ দাবি করাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ হয়। একপর্যায়ে ফাতেমা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঝিনুককে আঘাত করেন বলে পিবিআইয়ের দাবি। পরে জুয়েল, বাবু ও সজল গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, হত্যার পর মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে গাড়িতে করে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শেরপুরের শ্রীবরদীর কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে ফেলে রাখা হয়।

গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে নূর ইসলাম বাবু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত বলেন, ঘটনাটি ছিল একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড। পিবিআইয়ের একটি দল দ্রুত তদন্ত করে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


Share: