বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের সাবেক ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে বড় মোড় এসেছে। মামলাটি মুম্বাই পুলিশের কাছ থেকে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্ট।
মুম্বাইয়ের মাল্লাড এলাকার একটি বহুতল ভবনের ১৪ তলা থেকে পড়ে দিশা সালিয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। এর কয়েকদিন পর বান্দ্রায় নিজের ফ্ল্যাটে সুশান্ত সিং রাজপুতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দিশার মৃত্যুর ঘটনাটি সে সময় আপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করে প্রাথমিক তদন্তের পর মুম্বাই পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করেছিল।
তবে দিশার পরিবার শুরু থেকেই তার মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন তুলে আসছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ করা হলেও কেন এফআইআর দায়ের করা হয়নি এবং দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পরিবারকে দেওয়া হয়নি—এ নিয়েও আগে প্রশ্ন তুলেছিল হাইকোর্ট।
দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান আদালতে করা আবেদনে অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটির তদন্তে মুম্বাই পুলিশ গুরুতর গাফিলতি করেছে। তার আইনজীবী নীলেশ ওঝার দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার কারণে দীর্ঘদিনেও মামলায় এফআইআর করা হয়নি।
এই আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি সারং কোতোয়াল ও বিচারপতি রঞ্জিতসিনহা রাজাভোসলের বেঞ্চ মামলার তদন্ত মুম্বাই পুলিশের কাছ থেকে সরিয়ে সিবিআইয়ের হাতে দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মালবানি থানা ও মুম্বাই পুলিশকে মামলার সব নথি ও প্রতিবেদন সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সিবিআইকে সতীশ সালিয়ানের জবানবন্দি রেকর্ড করে একজন সিনিয়র কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালত বলেছে, যথাযথ প্রমাণ পাওয়ার আগে কাউকে অযথা অভিযুক্ত করা যাবে না।
তদন্তে কোনো অপরাধের প্রমাণ না মিললে সিবিআই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে সিবিআইয়ের প্রতিবেদনে আপত্তি জানানোর অধিকার দিশার পরিবারের থাকবে। হাইকোর্টের এই নির্দেশে সন্তোষ প্রকাশ করে ন্যায়বিচারের আশা করেছেন আবেদনকারীর আইনজীবী।