Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / শিক্ষা / বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা, ফল প্রকাশের পর কী পেলেন আফিয়া? - Chief TV

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা, ফল প্রকাশের পর কী পেলেন আফিয়া? - Chief TV

2026-10-31  ডেস্ক রিপোর্ট  34 views
বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা, ফল প্রকাশের পর কী পেলেন আফিয়া? - Chief TV

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে শোকাতুর অবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন বেনাপোলের শিক্ষার্থী আফিয়া মাসুমা। জীবনের কঠিন সেই মুহূর্তেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আফিয়া এবার ফলাফলে এ গ্রেড অর্জন করেছেন। তাঁর এ ফলে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এ গ্রেড পান তিনি। আফিয়া যশোরের শার্শা উপজেলার শার্শা উপজেলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

আফিয়া মাসুমা বেনাপোল পোর্ট থানার নামাজগ্রামের প্রয়াত আব্দুস সামাদের ছোট মেয়ে। তাঁর বাবা আব্দুস সামাদ (৬৫) বেনাপোলের মেসার্স তাজমহল ট্রান্সপোর্ট ও হাজী মুছা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একজন আমদানিকারক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

পরিবার ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্দুস সামাদ। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। রাতে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। স্বজনেরা যখন দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে যান আফিয়া।

বেনাপোল কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে বাবার দাফনে অংশ নেন। বাবার মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও স্বজনদের পরামর্শে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আফিয়া। তাঁকে শেষবারের মতো বাবাকে দেখার সুযোগ দিতে দাফনের সময়ও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে তিনি স্বজনদের বলে যান, তাঁকে ছাড়াই যেন বাবার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

ফল প্রকাশের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আফিয়া বলেন, বাবা সব সময় চাইতেন তাঁর ফলাফল ভালো হোক। পরীক্ষার সময় বাবাকে হারানো ছিল জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা ভেবেই নিজেকে সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

আফিয়া বলেন, ‘আমি আরও ভালো ফল করতে পারতাম। পরীক্ষার হলে লিখতে গিয়ে বারবার মৃত বাবার মুখ ভেসে উঠছিল। বাবা বেঁচে থাকলে এ ফল দেখে খুব খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চাই।’

শার্শা উপজেলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাসানউজ্জামান জানান, আফিয়া শুরু থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। শিক্ষকদের প্রত্যাশা ছিল, সে ভালো ফল করবে। পরীক্ষা চলাকালে বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনা তার মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জীবনের এত বড় শোক সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ গ্রেড অর্জন করা প্রশংসনীয়। তার ফলে কলেজের সবাই খুশি। বাবার মৃত্যু না হলে সে জিপিএ-৫ পেত বলেও শিক্ষকদের প্রত্যাশা ছিল। ভবিষ্যতেও আফিয়া সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাবাকে হারানো যে কারও জন্যই অত্যন্ত কষ্টের। সেই শোক সামলে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আফিয়ার ভালো ফল করা আনন্দের সংবাদ।

তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসন এ মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে থাকবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হলে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।

 


Share: