হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা অনেক সময় আশপাশের মানুষকে হতবাক করে দেয়। তবে হার্ট অ্যাটাকের আগে অনেকের শরীরে কিছু সতর্কসংকেত দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া গেলে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষণ হলো বুকের মাঝখানে চাপ, ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব করা। কয়েক মিনিট ধরে এই অস্বস্তি থাকতে পারে, আবার কমে গিয়ে ফিরে আসতে পারে। কখনো বুকে ভারী চাপ বা চেপে ধরার অনুভূতিও হয়।
এ ছাড়া পিঠ, ঘাড়, চোয়াল, কাঁধ কিংবা পেটের ওপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতাও হার্ট অ্যাটাকের সতর্কসংকেত হতে পারে। সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না; কারও কারও ক্ষেত্রে লক্ষণ তুলনামূলক মৃদুও হতে পারে।
হৃদ্যন্ত্রের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এ ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা যায়। রোগীকে বিশ্রামে রাখতে হবে এবং নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: হার্ট অ্যাটাক হলে জোরে বা ঘন ঘন কাশি দিয়ে তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। কাশি দিয়ে হার্ট অ্যাটাক ঠেকানো বা রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক করার পদ্ধতিটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রমাণিত জরুরি চিকিৎসা নয়। এতে হাসপাতালে যেতে দেরি হতে পারে। বুকব্যথা বা হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।