কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা-ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) কলকাতার বেহালায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কলকাতা পুলিশ জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর বীরেশ্বর মিত্র ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে কলকাতায় ফিরে বেহালার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিনি। সেখানেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, ধানবাদে পালিয়ে যাওয়ার পর বীরেশ্বর মিত্রের কলকাতার দুটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে এবং নগদ অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। এরপর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) গভীর রাতে হোটেলটির লিজ-হোল্ডার আবু জাফরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে তদন্তকারী দল। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এন্টালি থানা এলাকার মেন মার্কেট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলটির পরিচালন ব্যবস্থা, লিজসংক্রান্ত নথি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তের সূত্র ধরেই আবু জাফরের ভূমিকা সামনে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া তদন্তের স্বার্থে আরও দুই হোটেলকর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হোটেল শিখা-ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন পর্যটক ও কর্মী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যও রয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্তে হোটেল শিখা-ইনের প্রয়োজনীয় ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। এরপর কলকাতার নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকার হোটেল-গেস্টহাউসগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও কলকাতা পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা নিউমার্কেট ও আশপাশের অন্তত ৫০টি হোটেল ও গেস্টহাউস পরিদর্শন করেছেন। অগ্নিনিরাপত্তা ও হোটেলবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় সংশ্লিষ্ট মালিকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পরিদর্শন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিউমার্কেট এলাকার ১৭টি, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩টি, মারকুইস স্ট্রিটের ১৫টি, এস এন ব্যানার্জি রোডের একটি এবং তপশিয়ার একটি হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হোটেল ও গেস্টহাউস সাময়িকভাবে বন্ধের নোটিশও দেওয়া হয়েছে।