নীলফামারীর সৈয়দপুরে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়া ফুটবল চাকু দিয়ে কেটে ফেলা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে এক শিক্ষিকার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শিক্ষিকার থানায় করা অভিযোগের প্রতিবাদও জানান তারা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাতপাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ছেলে ও মেয়েদের দুটি দল গঠনের লক্ষ্যে কয়েকদিন ধরে স্কুল মাঠে অনুশীলন করছিলেন তারা। গত ১৬ আগস্ট অনুশীলনের সময় একটি ফুটবল পাশের সাতপাই বেলপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে। ওই সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছিলেন শিক্ষিকা জয়নব।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা বলটি আনতে শ্রেণিকক্ষে গেলে জয়নব নিজের ব্যাগ থেকে চাকু বের করে তাদের সামনেই ফুটবলটি কেটে ফেলেন। এ ঘটনায় তারা প্রতিবাদ করলে শিক্ষিকা তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং পুলিশ দিয়ে শায়েস্তা করার কথা বলেন। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন তিনি।
ঘটনাটি স্কুলের শিক্ষক মিহির রায়কে জানালে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওই শিক্ষিকার কাছে যান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় জয়নব মিহির রায়ের সঙ্গেও অসদাচরণ করেন। পরে শিক্ষিকা থানায় গিয়ে ধারণ করা ভিডিও দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও লিখিত আবেদন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী বর্ষা আখতার, তাসফিকা, নিরব ও জাবের বক্তব্য দেন।
অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষিকা জয়নবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় কয়েকজনকে নিজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন শিক্ষিকা জয়নব। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, ঘটনার বিষয়ে সহকারী শিক্ষক জয়নবের আবেদন আগে পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরাও স্মারকলিপি দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।