মার্কিন পপ তারকা ক্যাটি পেরির ৪২তম জন্মদিন আজ ২৫ অক্টোবর। সংগীতজগতে বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা অর্জনের পাশাপাশি টেলিভিশন ও ব্যবসায়ও সাফল্য পেয়েছেন এই শিল্পী। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
১৯৮৪ সালের ২৫ অক্টোবর জন্ম নেওয়া ক্যাটি পেরির সংগীতজীবনের শুরু গির্জায় গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে গান লেখা ও রেকর্ডিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে যাতায়াত শুরু করেন তিনি। একই বয়সে খ্রিষ্টীয় সংগীত প্রতিষ্ঠান ‘রেড হিল’-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন এবং নিজের জন্মনাম ক্যাটি হাডসন ব্যবহার করে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন। তবে শুরুর দিকে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি তিনি।
প্রাথমিক ব্যর্থতা কাটিয়ে পরবর্তী সময়ে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পপ তারকায় পরিণত হন ক্যাটি পেরি। সংগীতের পাশাপাশি টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগে যুক্ত হয়ে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য।

ক্যাটি পেরির আয়ের বড় উৎস সংগীত। বিভিন্ন হিসাবভিত্তিক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের জুন থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে তার আয় ছিল প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। জনপ্রিয় প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘আমেরিকান আইডল’-এ বিচারকের দায়িত্ব পালন করে প্রতি মৌসুমে প্রায় আড়াই কোটি ডলার পারিশ্রমিক পেতেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৩ সালে নিজের পাঁচটি অ্যালবামের সংগীতস্বত্ব ‘লিটমাস মিউজিক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পান তিনি। সংগীতের বাইরে চলচ্চিত্র, সুগন্ধি, জুতা ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন এই তারকা। এসব ক্ষেত্র থেকেও তার সম্পদ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
ক্যাটি পেরির সম্পদের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন বিলাসবহুল বাড়ি ও আবাসন। ২০১৭ সালে বেভারলি হিলসে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ডলারে একটি প্রাসাদোপম বাড়ি কেনেন তিনি। ২০২২ সালে বাড়িটি বিক্রির জন্য তোলা হয় এবং পরে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়।
২০১৮ সালে পরিবারের অতিথিদের থাকার জন্য কাছাকাছি এলাকায় আরও একটি বাড়ি কেনেন ৭৫ লাখ ডলারে। পরবর্তী সময়ে বাড়িটি বিক্রির জন্য তোলা হলে ২০২১ সালে প্রায় ৭৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলারে বিক্রি হয়। ২০১৯ সালে রানিয়ন ক্যানিয়ন এলাকায় পাশাপাশি থাকা দুটি বাড়ি বিক্রি করে মোট ১ কোটি ২৩ লাখ ডলার পান তিনি।
২০২০ সালে তৎকালীন স্বামী অভিনেতা অরল্যান্ডো ব্লুমের সঙ্গে মন্টেসিটো এলাকায় ‘ভিলা দে লা ভিস্তা’ নামের একটি বাড়ি কেনেন ক্যাটি পেরি। বাড়িটির দাম ছিল প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ডলার। প্রায় ৯ একর জমির ওপর অবস্থিত এই সম্পত্তি তার বিলাসবহুল জীবনযাপনের অন্যতম নিদর্শন।
এ ছাড়া ২০২৩ সালে ওয়েস্ট হলিউডের সিয়েরা টাওয়ারসে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলারে একটি বিলাসবহুল আবাসন কেনেন তিনি। পাশাপাশি থাকা দুটি আবাসিক অংশ মিলিয়ে তৈরি এই বাড়িতে রয়েছে দুটি শোবার ঘর, কাঠের বিশেষ সাজসজ্জা এবং ব্যক্তিগত চলচ্চিত্র দেখার কক্ষ।

মন্টেসিটোর একটি বাড়ি কেনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আইনি বিরোধেও জড়িয়েছিলেন ক্যাটি পেরি। ২০২০ সালের জুলাইয়ে তার ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপক বার্নি গুডভি ব্যবসায়ী কার্ল ওয়েস্টকটের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে বাড়িটি কেনার চুক্তি করেন। এর কয়েক মাস আগে ওয়েস্টকট বাড়িটি কিনেছিলেন প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলারে।
পরে ওয়েস্টকট চুক্তি বাতিলের চেষ্টা করেন। তার দাবি ছিল, শারীরিক অসুস্থতা ও অস্ত্রোপচারের পর ওষুধের প্রভাবে তিনি বাড়ি বিক্রির বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। এ নিয়ে মামলা হলে বাড়িটির মালিকানা হস্তান্তর বিলম্বিত হয়।
২০২৩ সালে আদালত বাড়ি বিক্রির চুক্তি বহাল রাখেন এবং ২০২৪ সালে মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। পরে ২০২৫ সালে আদালত ক্যাটি পেরিকে ১৮ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ২০২৬ সালের মে মাসে মামলার আইনজীবীদের পারিশ্রমিক বাবদ ৩০ লাখ ডলারের বেশি এবং আদালতের খরচ হিসেবে আরও ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুরুর দিকের ব্যর্থতা পেরিয়ে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা ক্যাটি পেরির জীবনযাত্রায় সংগীতের পাশাপাশি ব্যবসায়িক সাফল্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ৪২তম জন্মদিনে তাই তার সংগীতজীবনের অর্জনের পাশাপাশি বিপুল সম্পদ ও বিলাসবহুল সম্পত্তি নিয়েও আলোচনা চলছে।