বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের গুলারতাইড় গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গুলারতাইড় মিনিবার নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল খেলা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে স্থানীয় একটি মাঠে অনুষ্ঠিত এ খেলাকে ঘিরে গ্রামজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। গুলারতাইড়সহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের শত শত দর্শক খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত হন। নারী দর্শকদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় তরুণ সমাজসেবক নাঈমুল ইসলামের উদ্যোগে এবং গুলারতাইড় যুব সংঘের সহযোগিতায় এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকায় তরুণ ও যুবকদের খেলাধুলার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। তাদের মাদক, কিশোর অপরাধ ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই মাঠসংলগ্ন এলাকায় দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় রাতের মাঠে ফুটবল উপভোগ করেন দর্শকরা। এ সময় স্থানীয় তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে গুলারতাইড় প্রাইমারি স্কুলের মাঠের বেহাল দশা তুলে ধরে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান বক্তারা। তারা বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের সুস্থ বিকাশে একটি মানসম্মত খেলার মাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠটি সংস্কার করা হলে নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কার্যক্রমও আয়োজন করা সম্ভব হবে।
সমাজসেবক নাঈমুল ইসলাম বলেন, চিকাশী ইউনিয়নের গুলারতাইড় গ্রামে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। গুলারতাইড় প্রাইমারি স্কুলের ছোট মাঠটিও বর্তমানে খেলাধুলার অনুপযোগী। ফলে এলাকার তরুণদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মাঠটি দ্রুত সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের অবসর সময়কে ইতিবাচক কাজে লাগানোর অন্যতম মাধ্যম খেলাধুলা। মাঠের অভাবে তরুণরা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজে পড়তে পারে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও সংস্কারে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।
ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধুনট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ধুনট উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান তমাল ও অ্যাডভোকেট মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু।
অতিথিরা নাঈমুল ইসলামের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, মাঠ সংকটের মধ্যেও আলোর ব্যবস্থা করে রাতের বেলায় তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে তারা গুলারতাইড় প্রাইমারি স্কুলের মাঠটি দ্রুত সংস্কারের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও তুলে ধরা হয়। গুলারতাইড় গ্রামের কৃতী সন্তান জহুরুল ইসলাম অমি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির পরিবেশবান্ধব গাছের চারা উপহার দেন। খেলাধুলার পাশাপাশি এমন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ উপস্থিত দর্শক ও খেলোয়াড়দের প্রশংসা কুড়ায়।
ফাইনাল খেলা শেষে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠদের উপস্থিতিতে অতিথিরা বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, মেডেল ও গাছের চারা তুলে দেন। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘গুলারতাইড় মিনিবার নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট’।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি খেলার মাঠ শুধু বিনোদনের জায়গা নয়; এটি শিশু-কিশোর ও তরুণদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থাকলে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি হয়। পাশাপাশি মাদক ও অপরাধপ্রবণতা থেকে তরুণদের দূরে রাখতেও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তরুণ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশ ও খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুলারতাইড় প্রাইমারি স্কুলের মাঠটি দ্রুত সংস্কার করে স্থায়ীভাবে খেলাধুলার উপযোগী করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।