কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বসতঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও মারধরের অভিযোগ এবং এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাতের ঘটনার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রমনা ইউনিয়নের নছদ্দির মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী বিপ্লব, তার স্ত্রী আনু বেগমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, লুটপাট, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পর গভীর রাতে মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ ঘটনায় শামীম, ছাইদুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তারা।
বিপ্লব ও তার স্ত্রী আনু বেগমের দাবি, এসব ঘটনায় চিলমারী মডেল থানায় একাধিকবার অভিযোগ দিতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং তাদের হয়রানি করে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে অসুস্থ বিপ্লবকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রাখা হয়। একই সময় তার চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আনু বেগমকে মারধর করে বাইরে নিয়ে আসা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে পরিবারের দাবি।
স্থানীয়রা জানান, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বিপ্লব ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করা হয়। পরে আনু বেগমকে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসার পর গর্ভপাতের ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ন্যায়বিচারের দাবিতে পরবর্তীতে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।