Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / স্বাস্থ্য / খালি পেটে ধূমপানে হতে পারে মারাত্মক বিপদ! - Chief TV

খালি পেটে ধূমপানে হতে পারে মারাত্মক বিপদ! - Chief TV

2026-09-06  ডেস্ক রিপোর্ট  22 views
খালি পেটে ধূমপানে হতে পারে মারাত্মক বিপদ! - Chief TV

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এ কথা কমবেশি সবারই জানা। নিয়মিত ধূমপানে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্যানসার, হৃদরোগ ও ফুসফুসের নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে ঘুম থেকে উঠেই সিগারেট ধরানোর অভ্যাস থাকলে সেই ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দ্রুত সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস মুখ ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে ঘুম থেকে ওঠার কতক্ষণ পর কেউ প্রথম সিগারেটটি ধরছেন, তা ধূমপানের ওপর নির্ভরশীলতার মাত্রারও একটি ইঙ্গিত দিতে পারে।

গবেষণা অনুযায়ী, ঘুম থেকে ওঠার আধা ঘণ্টার মধ্যে যারা ধূমপান করেন, তাদের মুখ ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়োবিহেভিয়োরাল হেলথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক স্টিভেন ব্র্যানস্টেটারের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পরপরই সিগারেট খাওয়া ব্যক্তিদের রক্তে এনএনএএল নামের একটি রাসায়নিকের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। এই রাসায়নিকের মাত্রা ধূমপানের তীব্রতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। তামাক সেবনের কারণে বিভিন্ন রোগের পাশাপাশি অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ে।

ধূমপানের কারণে ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। এতে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ব্রংকাইটিস ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি সিগারেটের ক্ষতিকর রাসায়নিক রক্তনালিতে প্রভাব ফেলে রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ায়।

শুধু ফুসফুস নয়, মুখগহ্বর, গলা, অগ্ন্যাশয় ও মূত্রাশয়সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গেও ধূমপানের সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধূমপান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হতে পারে, ফলে বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ঘুম থেকে ওঠার পরপরই সিগারেট খেলে নিকোটিনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রুত শরীরে প্রবেশ করে। সকালে চা বা কফির সঙ্গে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও ধূমপানের ক্ষতি কমে যায় না।

ধূমপানের ক্ষতি থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পুরোপুরি ধূমপান ছেড়ে দেওয়া। দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কারণে হঠাৎ বন্ধ করা কঠিন হলে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কাউন্সেলিং ও নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিও ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করতে পারে।

সুস্থ থাকতে ধূমপান থেকে দূরে থাকা জরুরি। সকালে সিগারেটের পরিবর্তে হাঁটা বা শরীরচর্চার মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাও উপকারী হতে পারে।


Share: