টাঙ্গাইলের সখীপুরে কৃষিজমিতে মাটি খুঁড়ে জং ধরা দুটি লোহার বাক্স থেকে ১২টি রকেট লঞ্চারসদৃশ বস্তু ও তিনটি গোলাকার হাতবোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার কচুয়া থলচালা এলাকার একটি জমি থেকে এসব বস্তু উদ্ধার করা হয়। বাক্স দুটির গায়ে ‘ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ টাঙ্গাইল’ লেখা একটি নামফলক পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার কৃষক মো. আরছব আলী তাঁর ছেলে শাকিলকে নিয়ে জমিতে মাটি কাটছিলেন। এ সময় মাটির নিচে লোহার তৈরি দুটি বাক্স দেখতে পান তাঁরা। পরে বাক্স দুটি মাটি থেকে তুলে জমির আইলে রেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, বাক্স দুটির প্রতিটিতে ছয়টি করে মোট ১২টি রকেট লঞ্চারসদৃশ বস্তু পাওয়া গেছে। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি গোলাকার হাতবোমাসদৃশ বস্তু। বস্তুগুলো পুরোনো ও জং ধরা অবস্থায় ছিল। এগুলোর প্রকৃত পরিচয় ও অবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাসান আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে অনেক লোকজনের উপস্থিতি দেখতে পান তিনি। তাঁর ধারণা, বস্তুগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অথবা তার আগের পূর্ব পাকিস্তান পুলিশের ব্যবহৃত কোনো সরঞ্জাম হতে পারে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে পুরোনো ও জং ধরা ১২টি গুলিসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এগুলো গ্রেনেড নয়, রকেট লঞ্চার। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর পর বস্তুগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
মাটির নিচে এসব বস্তু কীভাবে এল এবং কত পুরোনো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।