সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নথিতে তাদের পিতা হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী এস এম আবুল কাসেমের নাম ব্যবহার করা হলেও তারা প্রকৃতপক্ষে অন্য দম্পতির সন্তান। অভিযোগ উঠেছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়ে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অপরজন সরকারের একটি বিশেষ বাহিনীতে চাকরি করছেন।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দুই ব্যক্তি হলেন কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের দশসিকা গ্রামের আব্দুর রশিদ ও সালেহ আকরাম। স্থানীয়দের দাবি, তাদের প্রকৃত বাবা রুস্তম আলী এবং মা রেহানা বেগম। অথচ সরকারি বিভিন্ন নথিতে তাদের পিতা হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী এস এম আবুল কাসেম এবং মাতা হিসেবে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রেজিয়া পারভীনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী এস এম আবুল কাসেমের প্রকৃত বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের সিংগারগাতি গ্রামে। তিনি দশসিকা গ্রামের জামাই। অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যক্তিগত জীবনে তার একমাত্র সন্তান কন্যা আমেনা খাতুন। তবে অভিযোগ রয়েছে, রুস্তম আলীর দুই ছেলের সরকারি কাগজপত্রে মুক্তিযোদ্ধা গাজী এস এম আবুল কাসেমকে পিতা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
রুস্তম আলী ও রেহানা বেগম তাদের তিন ছেলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, বড় ছেলে আব্দুর রশিদ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার হামকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মেজো ছেলে সালেহ আকরাম সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং ছোট ছেলে আবু সাঈদ পড়াশোনা করছেন।
তবে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শিক্ষক আব্দুর রশিদের দাবি, ছোটবেলা থেকেই তিনি খালুর নাম ব্যবহার করে আসছেন এবং এটিকেই নিজের পরিচয় হিসেবে জানেন। অন্যদিকে সালেহ আকরাম বলেন, ছোটবেলা থেকে খালা ও খালু তাদের লালন-পালন করেছেন। সে কারণেই তাদের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা গাজী এস এম আবুল কাসেমের একমাত্র কন্যা আমেনা খাতুন অভিযোগ করেছেন, তার বাবার প্রকৃত সন্তান তিনি একাই। তিনি দাবি করেন, অসাধু ব্যক্তিদের সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে অন্যরা সুবিধা নিয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ বলেন, খালুকে পিতা হিসেবে দেখিয়ে চাকরি নেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তারও বিষয়টিকে চাঞ্চল্যকর উল্লেখ করে বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওয়ারিশ সনদ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অভিযোগ বা প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে সরকারি নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে পরিচয় ব্যবহার এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তারা।