মুক্তিপণ হিসেবে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও ছয় দিন ধরে সন্ধান মিলছে না কলেজছাত্র রিদয়ন আনসারীর (২৫)। অপহরণকারীদের দাবিমতো বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে কয়েক দফায় টাকা পাঠিয়েও ছেলেকে ফিরে না পাওয়ায় দিশেহারা তাঁর পরিবার। এ ঘটনায় গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে র্যাব-৩-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্বজনেরা।
রিদয়ন আনসারী মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তাড়াইল গ্রামের প্রয়াত আব্দুল মান্নান আনসারীর ছেলে। বিবিএ পড়ার পাশাপাশি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি। বর্তমানে তাঁর পরিবার রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় বসবাস করছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার সফিপুর এলাকায় বোনের বাসা থেকে মগবাজারের উদ্দেশে রওনা হন রিদয়ন। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সারারাত বিভিন্ন হাসপাতাল ও থানায় খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাননি স্বজনেরা। পরদিন রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে শাহরিয়ার আনসারীর ফোনে কল আসে। ফোনকারী ব্যক্তিরা রিদয়নকে অপহরণের কথা জানিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেন। প্রমাণ হিসেবে কয়েক সেকেন্ডের জন্য রিদয়নের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথা বলিয়ে দেওয়া হয় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এ সময় তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
পরিবারের দাবি, রিদয়নকে নিরাপদে ফিরে পাওয়ার আশায় অপহরণকারীদের কথামতো কয়েক দফায় টাকা পাঠানো হয়। প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ৩০ মিনিট পর অন্য একটি বিকাশ নম্বরে আরও ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপর ঢাকার হাতিরঝিলের ২ নম্বর সেতু এলাকায় গিয়ে রিদয়নকে নিয়ে আসতে বলা হয় এবং নগদের মাধ্যমে আরও পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে বিভিন্ন বিকাশ ও নগদ নম্বরে ৪০ হাজার টাকা পাঠানো হলেও রিদয়নকে ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
এ ঘটনায় রিদয়নের খালাতো ভাই ফয়সল মাহমুদ গত রোববার (২৫ অক্টোবর) কালিয়াকৈর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পাশাপাশি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে র্যাব-৩-এর খিলগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
রিদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী বলেন, টাকা দেওয়ার পরও ভাইকে ফিরে না পাওয়ায় তাঁদের পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তাঁরা শুধু রিদয়নকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চান। তিন ভাইবোনের মধ্যে রিদয়ন সবার ছোট বলেও জানান তিনি।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও র্যাবের সদস্যরা কাজ করছেন।