Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / রংপুর / রংপুরে ৪ হত্যা: আসামির গায়ের শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন - Chief TV

রংপুরে ৪ হত্যা: আসামির গায়ের শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন - Chief TV

2026-08-24  ডেস্ক রিপোর্ট  54 views
রংপুরে ৪ হত্যা: আসামির গায়ের শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন - Chief TV

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজনের পরনের শার্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা চলছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন একই ধরনের শার্ট পরা এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখা যাওয়ায় বিষয়টি ঘিরে নানা প্রশ্নও উঠেছে।

স্থানীয় বিভিন্ন ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে মরদেহ উদ্ধারের সময় মাস্ক পরা এক ব্যক্তিকে একই ধরনের শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, একই ধরনের শার্ট আলাদা আলাদা মানুষ পরতেই পারেন।

চার খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের বাড়িও মাছুয়াপাড়ায়। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর তারা ভবনটিতে বসে ইয়াবা সেবন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে তাদের একজন পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।

তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। তদন্তে যুক্ত সিআইডির ইনচার্জ, মরদেহ উদ্ধারে নেতৃত্ব দেওয়া উপ-কমিশনার এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিন্দু ধর্মাবলম্বী। গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনও একই ধর্মের অনুসারী। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি নিছক কাকতালীয় এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই যুবক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় বসে সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ হলে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।

তবে পুলিশের এই বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশের নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের ফাঁকা জায়গা ও ছাদ থাকার পরও তারা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন, সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনারের কাছে এমন প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি জানান, অল্প সময়ে তদন্তে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। পাশাপাশি পুলিশের ইতিবাচক কাজের প্রশংসা ও নেতিবাচক কাজের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তদন্তে আস্থা রাখার কথা বলেন তিনি।

এর মধ্যে রোববার বিকেল ৫টার দিকে গ্রেপ্তার দুই যুবককে আদালতে হাজির করা হয়। মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি। তিনি জানান, দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

তবে গ্রেপ্তার দুই যুবকের স্বীকারোক্তি, ঘটনাস্থলে তাদের অবস্থান এবং হত্যাকাণ্ডের সময়কার গতিবিধি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তদন্তে কতটা পরিষ্কার হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


Share: