Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / রংপুর / রংপুরে ৪ হত্যার নতুন তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ - Chief TV

রংপুরে ৪ হত্যার নতুন তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ - Chief TV

2026-08-24  ডেস্ক রিপোর্ট  44 views
রংপুরে ৪ হত্যার নতুন তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ - Chief TV

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফরেনসিক বিভাগ। ময়নাতদন্তে নিহতদের মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়ার কারণ হিসেবে পচন ধরার কথা বলা হলেও সেখানে অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের আলামত পাওয়া যায়নি।

রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় চারটি মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে এসব তথ্য জানান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস।

তিনি জানান, চারটি মরদেহ থেকেই প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে।

ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মুখমণ্ডলের বিকৃতি পচন ধরার কারণে হয়েছে। সেখানে অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে নিহত প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙার কোনো আলামতও ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরের কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ২৫ বছর বয়সী মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় রোববার ভোরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করা হয়। পরে বিকেলে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

এর আগে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ ও ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ তার বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে তারা মাদক সেবন করছিলেন। একপর্যায়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাদের দেখতে পেয়ে বকাঝকা করেন।

পুলিশের দাবি, মাদক সেবনের বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় দুই যুবক তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। একপর্যায়ে গামছা দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে ধরলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় গণপতির চিৎকার ও শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা এগিয়ে এলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরে মেয়ে প্রার্থী ও ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। আয়ুশ অভিযুক্তদের চিনতে পারায় ভবিষ্যতে ঘটনা জানিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর দুই অভিযুক্ত ওই বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করেন এবং পরে আবার মাদক সেবন করেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে। এরপর তারা বাসায় তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের ভাষ্য, সিদ্ধার্থ একটি সোনার দোকানে কাজ করায় আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে স্বর্ণ শনাক্ত করা হয়। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আশপাশের লোকজন মসজিদে গেলে তারা পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে বেরিয়ে যান।

তবে ফরেনসিক বিভাগের প্রাথমিক ময়নাতদন্তের তথ্য পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া কয়েকটি তথ্যের সঙ্গে ভিন্নতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে নিহত প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙা এবং মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়ার কারণ নিয়ে ফরেনসিক বিভাগ ভিন্ন তথ্য দিয়েছে।

এখন সিআইডির ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। ওই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই চারজনের মৃত্যুর কারণ ও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে।


Share: