বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর কথিত বান্ধবী জেরিকা তাসনীম দিশাকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গণমাধ্যমে নাম প্রকাশের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন দিশা। তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের আগে তিনি তাঁর বাসার ঠিক বিপরীত পাশের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করেন তিনি।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে খালার বাসায় গিয়ে একজনকে নিজের নিরাপদে থাকার কথা জানান দিশা। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর আগে সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফ, তাঁর বন্ধু দীপ ও দিশাকে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি রেস্তোরাঁয় যেতে দেখা যায়। ফুটেজ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাঁরা সেখানে পৌঁছান। প্রথমে একটি মোটরসাইকেলে দুজন এবং কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে দীপ সেখানে যান। পরে তিনজনকে একসঙ্গে রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করতে দেখা যায়।
রেস্তোরাঁর আরেকটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও দিশা লিফটের সামনে অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পর হেলমেট পরা অবস্থায় সেখানে পৌঁছান দীপ। এরপর তিনজন একসঙ্গে লিফটে ওঠেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাঁদের রেস্তোরাঁ থেকে বের হতে দেখা যায়। পরে তাঁরা মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান।
রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার পর তিনজন কোথায় গিয়েছিলেন, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বন্ধু দীপকে প্রথমে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া এবং সেসব স্থানে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তথ্য দেন দীপ। তবে তাঁর বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে দাবি সূত্রের। পরে দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে পিবিআই।
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।